একাত্তর ডেস্ক ::
সিলেট জেলায় সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি। প্রথম দিন জেলার ২ হাজার ৪৬১টি কেন্দ্রে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকা প্রদান করা হবে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকেল সোয়া ৩টায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই কর্মসূচির আওতায় সিলেট জেলায় মোট ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৫১৪ শিশুকে হাম-রুবেলা টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ১০ মে পর্যন্ত মোট ১১ দিন ধরে এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
সোমবার সকাল ১০টায় নগরীর অগ্রগামী বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একইদিন জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে কানাইঘাট উপজেলায়। সেখানে ৪১ হাজার ১৯১ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ৪০ হাজার ৫৮৮ এবং সিলেট সদর উপজেলায় ৪০ হাজার ৩৬৭ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন বলেন, হাম একটি ভাইরাসজনিত অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত সংক্রমণের ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং সর্দি দেখা যায়।
তিনি আরও জানান, হাম রোগের জটিলতার মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি, এনসেফালাইটিস, অন্ধত্ব ও বধিরতার মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এসব জটিলতা বেশি দেখা যায় এবং অনেক সময় মৃত্যুও হতে পারে।
অন্যদিকে রুবেলাও একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ, যা একইভাবে হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়ায়। তাই শিশুদের সুস্থ রাখতে সময়মতো টিকা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জেলার সব শিশুকে টিকার আওতায় আনতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে টিকা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।




















