একাত্তর ডেস্ক ::
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড। তেলসমৃদ্ধ হরিপুর গ্যাসক্ষেত্রে নতুন তেলকূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. ফারুক হোসেন জানান, কোম্পানির অধীন হরিপুর, কৈলাশটিলা, বিয়ানীবাজার ও রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্রে বর্তমানে মোট ৩৪টি কূপ রয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৪ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা হচ্ছে। উৎপাদনের পরিমাণ আরও বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন প্রায় ছয় থেকে সাড়ে ছয় হাজার ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে সাড়ে চার হাজার ব্যারেল কনডেনসেট সিলেট গ্যাস ফিল্ডসের রশিদপুর ফ্র্যাকশনেশন প্লান্টে পরিশোধন করা হচ্ছে।
পরিশোধিত কনডেনসেট থেকে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল ও কেরোসিন উৎপাদন করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে হরিপুর গ্যাসক্ষেত্রে নতুন তেলকূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়ে মত দিয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এম ফরহাদ হাওলাদার। তিনি বলেন, দেশের সমুদ্র এলাকায় বিপুল পরিমাণ গ্যাস ও তেলের সম্ভাবনা রয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমুদ্র অঞ্চলে দ্রুত অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সিলেট গ্যাস ফিল্ডের গ্যাসকূপগুলো থেকে প্রাপ্ত জ্বালানি তেল দিয়ে বর্তমানে দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পেট্রোল, ১২ থেকে ১৫ শতাংশ অকটেন, ৯ শতাংশ ডিজেল এবং প্রায় ২ শতাংশ কেরোসিনের চাহিদা পূরণ হচ্ছে। নতুন কূপ খনন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।



















