একাত্তর ডেস্ক : :
প্রখ্যাত ভারতীয় সংগীতশিল্পী আশা ভোসলে অসুস্থতার খবর শোনার পর থেকেই গভীরভাবে ভেঙে পড়েন বাংলাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা।
শনিবার (১২ এপ্রিল) এই খবর জানার পর তিনি আশার পরিবারের সদস্য বৈদনাথ মঙ্গেশকরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং শিল্পীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। পরে বৈদনাথ জানান, আশার শারীরিক অবস্থা খুব ভালো নয়। এরপর থেকেই আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন রুনা লায়লা।
রোববার দুপুরে জানা যায়, আশা ভোসলের মৃত্যুর খবর শোনার পর রুনা লায়লা কোনোভাবেই নিজেকে সামলাতে পারছিলেন না। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “উফ্ আল্লাহ—এ আমি কী শুনলাম!”
আশা ভোসলে ও রুনা লায়লার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের হলেও ২০১২ সালে দুবাইয়ে আয়োজিত ‘সুরক্ষেত্র’ রিয়েলিটি শোতে বিচারক হিসেবে একসঙ্গে কাজ করার পর তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। সেই আয়োজনেই গানের কিংবদন্তি দুই শিল্পীর মধ্যে আন্তরিক সম্পর্ক তৈরি হয়।
রুনা লায়লা বলেন, সেই সময় থেকে নিয়মিত তাদের মধ্যে যোগাযোগ হতো, ফোনে কথা হতো, দেখা-সাক্ষাৎও চলত। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, একবার আশার আমন্ত্রণে গেলে তিনি নিজ হাতে কাবাব রান্না করে খাইয়েছিলেন, যা তাঁর কাছে আজও স্মরণীয়।
তিনি আরও বলেন, “আমার সঙ্গে আশাজির শেষ কথা হয়েছিল কিছুদিন আগে। ভেবেছিলাম আবার ফোন করব, কিন্তু আর করা হয়নি। আজ মনে হচ্ছে, কেন করলাম না।”
আশা ভোসলেকে স্মরণ করে রুনা লায়লা বলেন, তিনি ছিলেন এক অসাধারণ প্রতিভা ও মানুষ। তার মতো শিল্পী বিরল। “আমি ছোটবেলা থেকেই তাঁর গান শুনে শিখেছি, অনুপ্রাণিত হয়েছি। তাঁর গলায় যে গভীরতা ছিল, তা অতুলনীয়।”
তিনি আরও বলেন, বয়সে বড় হয়েও আশা ভোসলে সবসময় তাকে সম্মান করতেন এবং “আপনি” বলে সম্বোধন করতেন, যা নিয়ে রুনা লায়লা অনেক সময় অস্বস্তি বোধ করতেন। তিনি বারবার অনুরোধ করলেও আশা ভোসলে কখনোই নাম ধরে ডাকেননি।
রুনা লায়লা বলেন, “এত বড় একজন শিল্পীকে হারানো বিশ্বসংগীতের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর শূন্যতা কখনো পূরণ হবে না।”
AD/একাত্তরের কথা


















