দশদিক ডেস্ক : :
ইরান যুদ্ধের ৩৫তম দিনে, দেশটির আকাশসীমায় মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমানবাহিনী উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তত দুটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, পাঁচটি ড্রোন এবং দুটি সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো দিনটিকে ‘মার্কিন-ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর কালো দিন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পূর্বনির্ধারিত ফ্লোরিডার ছুটি বাতিল করে ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ইরানের সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের নতুন ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা এসব লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করেছে। খোমেইন ও জানজান প্রদেশের আকাশে দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইসফাহানের আকাশে দুটি ‘এমকিউ-৯’ অ্যাটাক ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া বুশেহর প্রদেশের আকাশে একটি ‘হার্মিস’ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
শুরুতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ক্ষয়ক্ষতি অস্বীকার করলেও পরে ইরান ঘটনার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে। দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘এফ-১৫ই’ (F-15E) যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। বিমানের দুজন ক্রুর মধ্যে পাইলটকে উদ্ধার করা গেলেও কো-পাইলট নিখোঁজ রয়েছেন। একই দিনে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীতে একটি ‘এ-১০ ওয়ার্টহগ’ (A-10 Warthog) বিধ্বস্ত হয়; এক ক্রু উদ্ধার হলেও অপরজন নিখোঁজ।
নিখোঁজ সেনাদের উদ্ধারে পাঠানো দুটি ‘ব্ল্যাক হক’ হেলিকপ্টার ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা লক্ষ্যবস্ত্রের শিকার হলেও বড় ক্ষয় ছাড়াই অভিযান চালাতে সক্ষম হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, বিধ্বস্ত বিমানের পাইলটদের জীবিত ধরতে সাধারণ মানুষকে পুরস্কৃত করা হবে।
আইআরজিসি আরও জানায়, তাদের অব্যাহত নজরদারি ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির কারণে ইরানের আকাশসীমা শত্রুপক্ষের জন্য ক্রমেই অনিরাপদ হয়ে উঠবে। এর আগে ১৯ মার্চ ইরান মার্কিন এফ-৩৫ লাইটনিং ২ স্টিলথ যুদ্ধবিমানে আঘাত হানের দাবি জানিয়েছিল, ‘মজিদ ইনফ্রারেড-গাইডেড সিস্টেম’ ব্যবহারের মাধ্যমে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সেনারা উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির আপডেট দেওয়া হচ্ছে।
AD/একাত্তরের কথা



















