স্টাফ রিপোর্ট ::
সিলেট মহানগরের ফুটপাত আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন করতে কয়েক বছর আগে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে রঙিন টাইলস বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। নগরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও পথচারীদের চলাচল সহজ করতে নেওয়া এই প্রকল্প এখন অনেক জায়গায় উল্টো জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোথাও টাইলস উঠে গেছে, কোথাও ভেঙে গেছে, আবার কোথাও ড্রেন পরিষ্কারের জন্য টাইলস খুলে ফেলে রেখে দেওয়ায় তৈরি হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নগরের বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের পর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় অনেক জায়গায় টাইলস নষ্ট হয়ে গেছে।
নগর ঘুরে দেখা যায়, বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা, মিরাবাজার, বারুতখানা, আম্বরখানা, শিবগঞ্জ, উপশহরসহ বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাতের টাইলস ভাঙা, দেবে যাওয়া বা খুলে পড়া অবস্থায় রয়েছে। অনেক জায়গায় টাইলস তুলে নেওয়ার পর আর বসানো হয়নি। ফলে ফুটপাতজুড়ে গর্ত ও উঁচুনিচু জায়গা তৈরি হয়েছে। এতে পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ছেন অনেকেই।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা জানান, প্রথম দিকে ফুটপাতগুলো সুন্দর দেখালেও কয়েক বছরের মধ্যেই টাইলস নষ্ট হতে শুরু করে। পরে ড্রেন পরিষ্কার বা পাইপলাইন মেরামতের কাজ করতে গিয়ে ফুটপাতের টাইলস ভেঙে ফেলা হয়। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার পর অনেক জায়গায় আর সেগুলো আগের মতো ঠিক করা হয়নি। ফলে ফুটপাত ব্যবহার অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।
একাধিক পথচারী অভিযোগ করেন, ফুটপাত থাকার পরও অনেক জায়গায় ভাঙা টাইলস ও গর্তের কারণে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। বয়স্ক মানুষ ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন।
এই অব্যবস্থাপনার সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল কবি ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবদুল বাসিত মোহাম্মদের মৃত্যু। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে সিলেট নগরের আম্বরখানা এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের নির্মাণাধীন খোলা ড্রেনে পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনাটি নিয়ে সিলেটজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন সংগঠন এই মৃত্যুর জন্য সিটি কর্পোরেশনের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও ক্ষতিপূরণ দাবি জানায়। নিহত বাসিত মোহাম্মদের পরিবার অভিযোগ করে জানায়, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং অব্যবস্থাপনার ফল। ঘটনার পর কিছুদিন তৎপরতা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে দৃশ্যমান পরিবর্তন খুব একটা হয়নি।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ফুটপাত নির্মাণের আগে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পানি ও বিদ্যুৎ লাইনের বিষয়গুলো সমন্বয় করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এসব বিষয় সমন্বয় না করেই টাইলস বসানো হয়। ফলে পরবর্তীতে বিভিন্ন সংস্থা কাজ করতে গিয়ে ফুটপাত ভাঙতে হয়েছে। এতে প্রকল্পের স্থায়িত্ব নষ্ট হয়েছে এবং সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে।
এ বিষয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলী আকবর বলেন, ফুটপাতে টাইলস বসানোর সময় কিছু ক্ষেত্রে ঠিকাদাররা পরিকল্পনা সঠিকভাবে অনুসরণ করেন নি। এ কারণে ড্রেন পরিষ্কারের কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে টাইলস অপসারণ করতে হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ফুটপাতগুলো দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।




















