একাত্তর ডেস্ক ::
মৌলভীবাজারে শনিবার গভীর রাতে প্রচণ্ড কালবৈশাখী ঝড়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘণ্টায় ৫২ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া ঝড়ে অসংখ্য গাছ উপড়ে পড়ে এবং বিদ্যুতের খুঁটি-তার ছিঁড়ে যাওয়ায় পুরো জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ আনিসুর রহমান জানান, শনিবার রাত ১২টার পর দমকা হাওয়া শুরু হয় এবং রাত আনুমানিক ২টায় প্রচণ্ড কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানে। স্থানীয় রাডারে ঝড়ের গতিবেগ ৫২ কিলোমিটার ধরা পড়ে।
কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য হারুন মিয়া বলেন, ঝড়ে অসংখ্য গাছ উপড়ে পড়েছে। চাতলাপুর তিলকপুর চা বাগানে কয়েকটি ঘরও ভেঙে পড়েছে।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কুলাউড়া সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঝড়ে ১৯টি স্পটে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে এবং একটি ট্রান্সফরমার বিকল হয়েছে। সারাদিন চেষ্টা করেও বিদ্যুৎ স্বাভাবিক করা সম্ভব কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
মৌলভীবাজার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হোসাইন মোহাম্মদ সাব্বির বলেন, প্রচণ্ড ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়ায় ফেঞ্চুগঞ্জ-মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল জাতীয় গ্রিডের ১১ ও ৩৩ কেভি লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে পুরো জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কখন সরবরাহ শুরু হবে তা এখনই বলা সম্ভব নয়।
জেলা প্রশাসক তৌহীদুজ্জামান পাভেল জানান, ফেঞ্চুগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর গাছ পড়ে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
ঝড়ের পর থেকে মৌলভীবাজার শহরসহ জেলার সবকটি উপজেলায় বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়িতে পানি সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং চা বাগানের উৎপাদনও বন্ধ হয়ে পড়েছে।




















