একাত্তর ডেস্ক ::
সুনামগঞ্জে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক সিন্ডিকেটের অভিযোগ তুলে হাজারো কৃষকের অংশগ্রহণে গণসমাবেশ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন শহীদ মিনার এলাকায় এ কর্মসূচি হয়।
সমাবেশে ‘কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ, দুর্নীতিবাজের হবে শেষ’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। জেলা হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের ব্যানারে আয়োজিত এই সমাবেশে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে কৃষক, কৃষাণী ও স্থানীয় প্রতিনিধি অংশ নেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়ন, পিআইসি গঠন এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ বিরাজ করছিল কৃষকদের মধ্যে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকাল থেকে দলে দলে মানুষ শহীদ মিনার চত্বরে জড়ো হতে থাকেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অসাধু চক্রের যোগসাজশে বাঁধ নির্মাণের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় বাঁধ নির্মাণ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
জেলা হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি রাজু আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও উপজেলার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
সমাবেশে মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের কৃষাণী সুলতানা বেগম বলেন, “আমরা রক্ত জল করে ফসল ফলাই, কিন্তু বাঁধের অনিয়মের কারণে আমাদের ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।”
বক্তারা আরও বলেন, হাওরের উন্নয়নের নামে প্রকৃতপক্ষে কৃষকের স্বার্থ উপেক্ষা করা হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা না থাকায় প্রতিবছরই ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকেরা। এ অবস্থার পরিবর্তন না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
সমাবেশ থেকে প্রশাসনের উদ্দেশ্যে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—দুর্নীতির বিচার বিভাগীয় তদন্ত, দায়ীদের প্রত্যাহার, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ ও কৃষিঋণ মওকুফ, বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম বন্ধ এবং নদী-খাল-বিল খননে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ।
দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয় সমাবেশ থেকে। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, হাওর রক্ষার ইস্যু এখন শুধু উন্নয়ন নয়, বরং কৃষকদের অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।




















