সাকিব আল মামুন
ঈদ উল আযহার আর মাত্র একদিন বাকি। ঈদকে সামনে রেখে সিলেটের বিভিন্নস্থানে বসেছে কোরবানির পশুর হাট। সিলেটে শেষ মূহুর্তে এসে জমে উঠেছে হাটগুলো।
নগরীর একমাত্র স্থায়ী হাট কাজিরবাজারসহ বিভিন্ন অস্থায়ী হাটে এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া নিয়ে হাটে হাজির হয়েছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা খামারি ও ব্যবসায়ীরা। তবে হাটে ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশি দেখা যায়।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সিলেট নগরীর একমাত্র স্থায়ী পশুর হাট কাজিরবাজার ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর বেচাকেনা।
হাটে কেউ পশুর দাম হাঁকাচ্ছেন, আবার কেউ দরদাম করে পছন্দের পশু কিনে নিচ্ছেন।
হাটে দেশি জাতের গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি দেখা গেছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো ছোট ও মাঝারি আকারের গরু কিনতে বেশি ভিড় করছেন। অনেক ক্রেতা পশুর স্বাস্থ্য, দাঁত ও ওজন দেখে দাম যাচাই করছেন।
এবার সিলেট মহানগরীতে একমাত্র স্থায়ী পশুর হাট হিসেবে কাজিরবাজার, অস্থায়ী হিসেবে দক্ষিণ সুরমা কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনাল সংলগ্ন খালি জায়গা, নতুন টুকের বাজার তেমুখী পয়েন্ট সংলগ্ন স্থান, মিরাবাজারে আবুল লতিফ প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা, শাহপরাণ বাজার সংলগ্ন খালি জায়গা এবং তেতলীতে সিসিকের মালিকানাধীন এস ফল্ট মাঠসহ ৬টি অস্থায়ী পশুর হাট বসেছে। সিলেট জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৬০টি ও মহানগরীর ৭টিসহ মোট ৬৭টি পশুর হাট বসেছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৯৩৮টি। বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৫টি পশু। অর্থাৎ চাহিদা মিটিয়েও প্রায় তিন হাজার ৯৬৬ পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।
ক্রেতারা বলছেন, হাটে পছন্দের গরু মিললেও অতিরিক্ত দামের কারণে অনেকেরই কোরবানির পশু কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি থাকায় এসব পশুর দাম তুলনামূলক অনেক বেশি হাঁকানো হচ্ছে। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।
এদিকে বিক্রেতারা বলছেন, গো-খাদ্য ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবার পশুর দাম কিছুটা বেশি। তবে ঈদের শেষ মুহূর্তে ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়ায় ভালো বিক্রির আশা করছেন তারা।
অন্যদিকে পশুর হাটসমূহের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে মঙ্গলবার সকালে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী মিরাপাড়া পশুর হাট পরিদর্শন করেন।
এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নিয়মিত ডিউটির পাশাপাশি পুলিশ অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছে। ঈদ যাত্রা ও কোরবানির পশুর হাট নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
একাত্তরেরকথা/এসএএম/এমইউএ




















