সাকিব আল মামুন
পবিত্র ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে সিলেট নগরীতে এবার মাত্র ৫টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)। সোমবার পশুর হাটের ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তারা। বিজ্ঞপ্তি থেকে এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। গেল ঈদে সিসিক অনুমোদন দিয়েছিল ১২টি অস্থায়ী হাট। সম্প্রতি কাজীরবাজারের মালিকানা ফিরে পায় সিটি কর্পোরেশন। হাটটি যারা লিজ নিয়েছেন তারা সিটি কর্পোরেশনের জনৈক শীর্ষ কর্তার অত্যন্ত ঘনিষ্টজন বলে জানা গেছে। তাদেরকে ‘ব্যবসার সুযোগ করে দিতেই’ কর্তৃপক্ষের এমন ‘গোপন উদ্যোগ’- নগরজুড়ে গুঞ্জন রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আগামী ১৮ মে থেকে ঈদের দিন পর্যন্ত মোট ৯ দিনের জন্য নগরীর নির্ধারিত পাঁচটি স্থানে কোরবানির পশুর অস্থায়ী হাট বসবে। নির্ধারিত স্থানগুলো হচ্ছে দক্ষিণ সুরমা কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনাল সংলগ্ন খালি জায়গা, নতুন টুকেরবাজার তেমুখী পয়েন্ট সংলগ্ন স্থান, মিরাবাজারে আবুল লতিফ প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা, শাহপরাণ বাজার সংলগ্ন খালি জায়গা এবং তেতলীতে সিসিকের মালিকানাধীন এস ফল্ট মাঠ।
হাটগুলোর ইজারামূল্য ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৩ ও ১৪ মে দরপত্র ফরম বিতরণ এবং ১৭ মে দরপত্র জমা ও খোলার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই নগরজুড়ে শুরু হয়েছে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা। গেল বছর মহানগরীর ১২টি স্থানে অস্থায়ী পশুর হাটের অনুমতি দিয়েছিল সিসিক। ২০২৪ সালে ছিল ৮টি হাটের অনুমোদন। পরবর্তী বছর ৪টি বৃদ্ধি করা হয়। কিন্তু এবার ৭টি হাট কমিয়ে মাত্র ৫টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ইজারা প্রক্রিয়ায় সিন্ডিকেটের প্রভাব, অবৈধ পশুর হাটের বিস্তার এবং সরকারি রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
তবে নগরবাসী ও পশু বিক্রেতাদের দাবি, সিলেটের মতো বড় নগরীর জন্য মাত্র পাঁচটি অস্থায়ী পশুর হাট কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়। ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে নগরী ও আশপাশের উপজেলাগুলোতে হাজার হাজার পশু আসে। সে তুলনায় হাটের সংখ্যা কম হওয়ায় বৈধ হাটের বাইরে বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ পশুর হাট গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। প্রতি বছরই নগরীর বিভিন্ন সড়ক, খালি জায়গা ও আবাসিক এলাকার পাশে অনুমোদনহীন পশুর হাট বসতে দেখা যায়। এসব হাটে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি, নিরাপত্তা বা সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তবুও প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এসব হাট পরিচালিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শেষ মুহুর্তে অস্থায়ীভাবে গড়ে উঠতে পারে অবৈধ পশুর হাট। এতে একদিকে জনভোগান্তি বাড়বে, অন্যদিকে সরকার হারাবে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সিলেট নগরীর জনসংখ্যা, পশুর চাহিদা এবং ব্যবসার পরিধি বিবেচনায় আরও বেশি সংখ্যক অস্থায়ী পশুর হাটের অনুমোদন দেওয়া প্রয়োজন ছিল। এতে বৈধভাবে রাজস্ব আদায়ের সুযোগ বাড়তো এবং অবৈধ হাট নিয়ন্ত্রণ করাও সহজ হতো। পাশাপাশি যানজট ও জনদুর্ভোগও কমানো সম্ভব হতো।
তবে সিসিকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নগরীর পরিবেশ, স্বাস্থ্যবিধি, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং জনসাধারণের ভোগান্তির বিষয় বিবেচনায় সীমিত সংখ্যক হাট নির্ধারণ করা হয়েছে। ইজারাদারদের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘন করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সিসিক।
এদিকে নগরীর একমাত্র স্থায়ী পশুর হাট কাজিরবাজার নিয়েও দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হাটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল একটি বলয়। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সিলেট নগরীর ঐতিহ্যবাহী কাজিরবাজারের মালিকানা চূড়ান্তভাবে রাষ্ট্রের অনুকূলে এসেছে। সরকারের পক্ষ থেকে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) এক বছরের জন্য বাজারটি ইজারা দিয়েছে।
এস/এম/এম




















