একাত্তর ডেস্ক ::
সিলেট নগরের রায়নগরে একই পরিবারের দম্পতি ও গৃহপরিচারিকাকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় বাবুল মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেল ৫টায় সোবহানীঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শিপলু চৌধুরীর নেতৃত্বে রায়নগর রাজবাড়ি এলাকা থেকে তাকে আটক করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে বাবুলের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। বাবুলই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বাবুলের সাথে ওই বাসার গৃহকর্মী তাহমিনার পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
আটক বাবুল মিয়া রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনির ভাড়াটিয়া। তার বাবার নাম মৃত নূর মিয়া ওরফে নূর কবিরাজ।
এর আগে বুধবার সকালে রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকার নিজ বাসা থেকে বৃদ্ধ ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনজনকে হত্যার ঘটনায় নগরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের সময় ওই বাসার সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ ছিল। বিদ্যুৎ না থাকায় ক্যামেরাটি সচল ছিল না। তদন্তকারীদের ধারণা, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার আগেই হত্যাকারী বাসায় প্রবেশ করে থাকতে পারে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোনো ছুরি বা অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করে এবং আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বাবুলকে সনাক্ত করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তিনজনকে আঘাত করার আলামত পাওয়া গেছে। তবে ঘটনাস্থল থেকে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি। খুব শীঘ্রই আমরা অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসব।
পুলিশ কমিশনার বলেন, বাসার আলমারি ও ওয়ারড্রোব খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। সেখান থেকে স্বর্ণালঙ্কার বা মূল্যবান সামগ্রী খোয়া গেছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ডাকাতি, পারিবারিক বিরোধ কিংবা পূর্বশত্রুতাসহ হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য সব কারণ সামনে রেখে তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া একটি দলিলও তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
চারতলার ভাড়াটিয়ারা সকালে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনেছেন বলেও পুলিশকে জানিয়েছেন।
নিহত আব্দুস সাত্তার সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের উপদেষ্টা এবং সিলেট চেম্বারের পরিচালক ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে ওই বাসায় বসবাস করছিলেন। তাদের দেখাশোনার জন্য গৃহপরিচারিকা তাহমিনা সেখানে থাকতেন। নিহত দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে দুজন যুক্তরাজ্য এবং দুজন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন।
নিহত দম্পতির ভাগনে মুন্না মিয়া জানান, বুধবার সকাল ৯টার দিকেও তিনি তার মামা-মামির সঙ্গে কথা বলেছেন। এরপরই কোনো এক সময় তাদের হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছেন তিনি।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি খান মোহাম্মদ মঈনুল জাকির জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলেই প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। একই সঙ্গে হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
এ ঘটনায় পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটসহ পুলিশের বিভিন্ন বিশেষায়িত দল কাজ করছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ, সুরতহাল ও অন্যান্য আইনগত কার্যক্রম শেষে এখন প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি আটক বাবুল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশ বলছে, আটক ব্যক্তির কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং অন্যান্য আলামত যাচাই করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত চিত্র বের করার চেষ্টা চলছে।



















