একাত্তর ডেস্ক ::
টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে বোরো ফসলের জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ভরাম, নলুয়া ও মইয়া হাওরসহ অন্তত ছয়টি হাওরের প্রায় ২০ হাজার ৪২৩ হেক্টর আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫০ হেক্টর জমি পুরোপুরি ডুবে গেছে এবং আরও কিছু জমি আংশিক নিমজ্জিত রয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ আরও বেশি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে হাওরের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গায় কৃষকরা ফসল রক্ষায় বেড়িবাঁধ কেটে পানি নামানোর চেষ্টা করছেন। কোথাও কোমর, আবার কোথাও বুকসমান পানি জমে রয়েছে জমিতে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাউছার আহমেদ বলেন, “এখনো ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। পানি দ্রুত নেমে গেলে ফসল বাঁচানো সম্ভব। তবে পানি স্থায়ী হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে।” তিনি জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
কৃষক প্রমোদ দাস বলেন, তার কয়েক বিঘা জমি ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে এবং ধান পরিপক্ব না হওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। অনেক কৃষকই এখন জমির দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া উপায় দেখছেন না।
স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহলের দাবি, হাওরের বাঁধের বিভিন্ন স্থানে মিনি স্লুইসগেট নির্মাণ এবং খাল-বিল খনন করা হলে এ সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করা সম্ভব। হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের নেতারা বলছেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পিত উদ্যোগ ছাড়া প্রতি বছরই কৃষকদের একই সংকটে পড়তে হবে।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরকত উল্লাহ জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং আগামী মৌসুমে কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকেও স্লুইসগেট ও খাল খননের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।




















