Ekattorer Kotha
রবিবার , ১৪ জুন ২০২৬ | ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২রা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আলোচিত
  5. ইপেপার
  6. ক্রিকেট
  7. খুলনা
  8. খেলা
  9. চট্রগ্রাম
  10. জাতীয়
  11. ঢাকা
  12. দেশের ভেতরে
  13. প্রবাসের কথা
  14. প্রযুক্তি
  15. প্রেসবক্স

দুই দশক ধরে ‘অস্থায়ী’ পরিচয়

আদালতের রায়ও বাস্তবায়ন হয়নি, সিসিকের ২৪১ কর্মচারীর স্থায়ীকরণ ঝুলে আছে; অপেক্ষায় আরও দেড়হাজার

                       

জুন ১৪, ২০২৬
                   

রিটন আহমদ দিপু : :

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি বড় অংশ বছরের পর বছর দায়িত্ব পালন করলেও এখনও পাননি চাকরির স্থায়িত্ব। কেউ ২০ বছর, কেউ ১৮ বছর, আবার কেউ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখায় কাজ করলেও তাদের চাকরির খাতা আজও ‘মাস্টাররোল’ পরিচয়ে আটকে আছে। উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়, মন্ত্রণালয়ের ইতিবাচক মতামত এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সুপারিশ থাকার পরও ২৪১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি স্থায়ী না হওয়ায় তাদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। একই সঙ্গে প্রায় দেড় হাজার অস্থায়ী কর্মচারীও এই সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন।

দীর্ঘদিন ধরে নগরভবনে প্রকৌশল, রাজস্ব, স্বাস্থ্য, প্রশাসন, পরিচ্ছন্নতা, বিদ্যুৎ, পরিচ্ছন্নতা, পানি সরবরাহসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী। নাগরিক সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা নিয়মিত হলেও চাকরির ক্ষেত্রে তারা এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে ২০১৫ সালে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন সিসিকের সহকারী প্রকৌশলী হাসিবুর রহমান। ২০১৮ সালের ১৮ মার্চ আদালত রায় দিয়ে ২৪১ কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি স্থায়ী করার নির্দেশ দেন। পরে সিসিক কর্তৃপক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করলেও ২০২৩ সালের ২৩ জানুয়ারি উচ্চ আদালত আগের রায় বহাল রাখেন। এর ফলে আইনগতভাবে চাকরি স্থায়ীকরণের সব বাধা দূর হয়ে যায়। কিন্তু প্রায় সাড়ে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও বাস্তবায়ন হয়নি আদালতের নির্দেশনা। ফলে আদালতে বিজয়ী হয়েও চাকরির নিশ্চয়তা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন কর্মচারীরা।

মাস্টাররোলের কর্মচারী হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের অনেক মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। স্থায়ী চাকরি না থাকায় অনেক কর্মচারী নিয়মিত পদোন্নতির সুযোগ পান না। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও একই পদে বছরের পর বছর দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। চাকরির নিরাপত্তা না থাকায় ব্যাংক ঋণ গ্রহণ, গৃহনির্মাণ ঋণ, ব্যক্তিগত ঋণ কিংবা অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়।

এছাড়া অবসর-পরবর্তী পেনশন, গ্র্যাচুইটি, প্রভিডেন্ট ফান্ডের পূর্ণ সুবিধা, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা, ঝুঁকি ভাতা এবং অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত থাকেন তারা। কর্মচারীদের অভিযোগ, একই দপ্তরে পাশাপাশি কাজ করেও স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মীদের মধ্যে সুবিধার বৈষম্য রয়েছে।

একাধিক কর্মচারী জানান, চাকরির অনিশ্চয়তার কারণে অনেকের সন্তানের উচ্চশিক্ষা, পরিবারের চিকিৎসা এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন চাকরি করেও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না।

দুই দশক ধরে চাকরি করা এক কর্মচারী বলেন, ‘যখন চাকরিতে যোগ দিয়েছিলাম তখন অবিবাহিত ছিলাম। এখন সন্তানেরা বিশ^বিদ্যালয়ে পড়ছে। জীবনের সবচেয়ে কর্মক্ষম সময় সিটি করপোরেশনকে দিয়েছি। কিন্তু এখনও জানি না চাকরির ভবিষ্যৎ কী হবে।

আরেক কর্মচারীর ভাষ্য, ‘আদালতের রায় পাওয়ার পর ভেবেছিলাম সমস্যা শেষ হবে। কিন্তু তিন বছর পার হয়ে গেলেও বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা যেন এক অদৃশ্য অপেক্ষার মধ্যে আটকে আছি।’ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আদালতের রায়ের পর তৎকালীন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠান। পরে প্রশাসনিক পরিবর্তন, জনবল কাঠামো অনুমোদনের জটিলতা এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত কারণে বিষয়টি ধীরগতির হয়ে পড়ে।

২০২৫ সালে চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে আন্দোলনের মুখে স্থানীয় সরকার বিভাগের একজন যুগ্ম সচিব সিসিকে এসে বিষয়টি পর্যালোচনা করেন। তিনি রায়প্রাপ্ত কর্মীদের স্থায়ীকরণের বিষয়ে ইতিবাচক মতামত দিলেও পরবর্তী কার্যক্রম আর দৃশ্যমান অগ্রগতি পায়নি।

সিসিকসূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী বিভিন্ন পর্যায়ে অস্থায়ী বা মাস্টাররোল ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের ধারণা, আদালতের রায়প্রাপ্ত ২৪১ জনের চাকরি স্থায়ী হলে অন্যদের ক্ষেত্রেও নিয়মিতকরণের পথ উন্মুক্ত হবে। ফলে ২৪১ জনের স্থায়ীকরণের প্রশ্ন এখন শুধু একটি গোষ্ঠীর দাবি নয়; এটি সিটি করপোরেশনের বৃহৎ কর্মীবাহিনীর ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।

সিসিক কর্মচারী-শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা বলছেন, আদালতের চূড়ান্ত রায় বাস্তবায়নে বিলম্ব প্রশাসনিক দুর্বলতারই প্রতিফলন। তারা দ্রুত রায় কার্যকর করে কর্মচারীদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, যারা বছরের পর বছর নগরবাসীর সেবা নিশ্চিত করতে মাঠে কাজ করছেন, তাদের চাকরির নিশ্চয়তা না থাকা শুধু কর্মচারীদের জন্য নয়, প্রতিষ্ঠানটির জন্যও অস্বস্তিকর ও অমানবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

সিসিকের প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। জনবল কাঠামো অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পেলেই আদালতের রায়প্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

সর্বশেষ - জাতীয়