‘‘বিশ্ব কিডনি দিবস-২০২৬’’ উদযাপন উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার রাজধানি ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বর্ণাঢ্য র্যালি ও পথ সভার আয়োজন করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় কিডনি বিষয়ক বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কিডনি এওয়ারনেস মনিটরিং এন্ড প্রিভেনশন সোসাইটি (ক্যাম্পস)।
বিশ্ব কিডনি দিবস-২০২৬ এর প্রতিপাদ্য বিষয় হলো “সবার জন্য সুস্থ কিডনি-জীবন রক্ষায় বাঁচাও ধরণী।” এর আলোকেই ক্যাম্পস তার এ বছরের সমস্ত আয়োজন সাজিয়েছে।
ঢাকার ধানমন্ডি এলাকা থেকে শুরু করে এই র্যালি মোহাম্মাদপুর, শাহবাগসহ নগরির বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ করে। ক্যাম্পস’র প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদ এর নেতৃত্বে এ র্যালিতে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রায় শতাধিক লোক অংশগ্রহণ করে। রাল্যির এক পর্যায়ে এক পথ সভাতে বক্তব্য দেন অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদ।
নি তার বলেন, বাংলাদেশ কিডনি রোগ মারাত্মক আকার ধারন করছে, যার মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন একটি নতুন ভয়াবহ হুমকি হিসেবে যুক্ত হয়েছে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, সংক্রমণ, ভেজাল খ্যা, কীটনাশকের সঙ্গে তাপপ্রবাহ, লবণাক্ততা, বিশুদ্ধ পানির সংকট কিডনি রোগকে আরও ত্বরান্বিত করছে।
তথ্য মতে, প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ লোক কোন না কোন কিডনি রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার কিডনি রোগী ডায়ালাইসিসের উপর নির্ভরশীল হয়। তিনি বলেন, ২৪ থেকে ৩০ হাজার রোগী হঠাৎ কিডনি বিকল হয়ে সাময়িক ডায়ালাইসিস প্রয়োজন হয়। পক্ষান্তরে, সবাই যদি কিডনি রোগের ব্যাপকতা, ভয়াবহতা, পরিণতি ও কারণ সম্পর্কে সচেতন থাকে এবং স্বাস্থ সম্মত জীবনযাপন করে তা হলে ৬০-৭০ ভাগ ক্ষেত্রে এই মরণঘাতী কিডনি রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
ডা. এম এ সামাদ বলেন, কিডনি বিকলের চিকিৎসা সর্বাধিক ব্যয়বহুল। ফলে চিকিৎসা করতে গিয়ে পুরো পরিবার নিঃস্ব হয়ে যায়। তাই ক্যাম্পস এর স্লোগান ‘‘কিডনি রোগ জীবননাশা-প্রতিরোধই বাঁচার আশা’’ ঘরে ঘরে পৌছে দিতে চাই। অর্থাৎ কিডনি রোগ প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করে চিকিৎসার মাধ্যমে মরণব্যাধি কিডনি বিকল প্রতিরোধ করা যায়। এর জন্য প্রয়োজন গণসচেতনতা।
তিনি বলেন, ডায়াবেটিস আর উচ্চ রক্তচাপের হার কমাতে না পারলে কিডনি রোগ নিয়ন্ত্রণ করা অনেক কঠিন হবে। অসচেতনতাই মূল কারন, আমরা জানি কিন্তু মানি না, ঝুঁকি জেনেও কেউ টেস্ট করাতে যাই না অথচ প্রথম এবং দিত্বীয় ধাপে ধরা পরলে কিডনি রোগ নিরাময় করা সম্ভব যা ৩য় বা পরের ধাপে গেলে একেবারেই সুস্থ করা যায়ে না।




















