তৃণমূল পর্যায়ে দ্রুত ও সহজলভ্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মত দিয়েছেন বক্তারা। বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে “বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্প”-এর প্রচার কার্যক্রম বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এ অভিমত ব্যক্ত করা হয়।
গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিলের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও “বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্প”-এর জাতীয় প্রকল্প পরিচালক সুরাইয়া আক্তার জাহান।
সভায় প্রকল্পের বর্তমান কার্যক্রম ও গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের সহযোগিতা প্রত্যাশা বিষয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন প্রকল্প সমন্বয়ক বিভাস চক্রবর্তী। এছাড়া গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ ও এর বিধিমালা নিয়ে আলোচনা করেন ব্যারিস্টার মশিউর রহমান চৌধুরী। গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের কার্যক্রম সম্পর্কে আলোকপাত করেন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রচার ও সমন্বয়) ডালিয়া ইয়াসমিন।
বক্তারা বলেন, অল্প সময়ে এবং স্বল্প ব্যয়ে সঠিক বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাম আদালতের বিকল্প নেই। গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা মূল্যমানের দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তি করা সম্ভব। এখানে আইনজীবী নিয়োগের প্রয়োজন হয় না এবং সমঝোতার ভিত্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় নতুন বিরোধ সৃষ্টির সম্ভাবনাও কম থাকে।
সভায় আরও জানানো হয়, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ সহজেই গ্রাম আদালতের মাধ্যমে বিচারিক সহায়তা পেতে পারেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুরাইয়া আক্তার জাহান বলেন, “সম্মিলিত উদ্যোগে গ্রামের সাধারণ মানুষকে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে আইনি সেবা দেওয়া গেলে তারা সহজেই আর্থিক ও মানসিক হয়রানি থেকে রক্ষা পাবে।” তিনি জানান, চুরি, দাঙ্গা, প্রতারণা, ঝগড়া-বিবাদ, হুমকি, নারীর প্রতি অমর্যাদা, বাল্যবিবাহ, তালাক ও অভিভাবকত্বসহ বিভিন্ন ধরনের দেওয়ানি বিরোধের নিষ্পত্তি গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে গণযোগাযোগ অধিদপ্তর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ সময় তিনি প্রকল্পের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিল বলেন, “মানুষের অধিকার ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন ও হালনাগাদ রাখতে তথ্য কর্মকর্তারা নিয়মিত কাজ করছেন। গ্রাম আদালত নামমাত্র খরচে জনগণকে ন্যায়বিচার দিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এর সুফল সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, তথ্য অফিস ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগে এ বিষয়ে আরও ইতিবাচক ফল অর্জন সম্ভব হবে।




















