স্টাফ রিপোর্ট
সিলেট শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বাসিয়া নদী পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার বেলা ১টা ২০ মিনিটে তিনি নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও বিপুল সংখ্যক স্থানীয় মানুষ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বাসিয়া নদীর ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খালটি খনন করেছিলেন। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালটি ভরাট হয়ে বর্তমানে প্রায় মৃতপ্রায় অবস্থায় রয়েছে। ফলে কৃষি, পানি প্রবাহ ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
তিনি বলেন, “এই খালটি পুনঃখনন করতে পারলে প্রায় ৮০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবে। এছাড়া আরও প্রায় দেড় লাখ কৃষক পরোক্ষভাবে সুবিধা পাবে।” তার মতে, খালটি পুনরুজ্জীবিত হলে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং ফসল উৎপাদন বছরে প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বাসিয়া খালটির মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০ কিলোমিটার হলেও প্রথম পর্যায়ে ২৩ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হবে। এ কাজ সম্পন্ন করতে দুইটি শুকনো মৌসুম সময় লাগবে। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় চলতি বছরের কাজ আংশিকভাবে এগোবে, তবে আগামী নভেম্বর থেকে পূর্ণোদ্যমে পুনরায় কাজ শুরু করা হবে। সরকার আগামী বছরের মধ্যেই পুরো কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
পুনঃখননের পাশাপাশি খালের দুই তীরে প্রায় ৫০ হাজার গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব গাছের মধ্যে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর ফলে একদিকে যেমন খালের পাড় সংরক্ষণ হবে, অন্যদিকে স্থানীয় জনগণের জন্য ছায়া, ফল এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে কৃষকদের কল্যাণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন। তিনি জানান, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সরাসরি ঋণ, সার, বীজ ও কীটনাশক পৌঁছে দেওয়া হবে। এছাড়া বছরে আড়াই হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে কৃষকরা প্রয়োজনীয় উপকরণ নিজেরাই কিনতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে, যা তাদের আর্থিক চাপ কমাতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে, যার মাধ্যমে পরিবারভিত্তিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বাসিয়া খাল পুনঃখনন শুধু একটি প্রকল্প নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর জাতীয় উদ্যোগের অংশ। ইতোমধ্যে দেশের প্রায় ৬০টি জেলায় খাল খনন বা পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি সমাধান দিতে সক্ষম হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শিল্প খাত নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, দেশে বন্ধ হয়ে থাকা কলকারখানাগুলো ধীরে ধীরে চালু করা হবে, যাতে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। এ লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
এছাড়া বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতেও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, “কথা কম, কাজ বেশি-এই নীতিতে আমরা দেশ গড়তে চাই।”
প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে বলেন, সরকারের সকল কার্যক্রম জনগণের কল্যাণের জন্য। তিনি জনগণের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, সবাই একসঙ্গে কাজ করলে দেশকে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
এ সময়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন।




















