Ekattorer Kotha
রবিবার , ২৯ মার্চ ২০২৬ | ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৩রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আলোচিত
  5. ইপেপার
  6. ক্রিকেট
  7. খুলনা
  8. খেলা
  9. চট্রগ্রাম
  10. জাতীয়
  11. ঢাকা
  12. দেশের ভেতরে
  13. প্রবাসের কথা
  14. প্রযুক্তি
  15. প্রেসবক্স

সমুদ্রের তলদেশে চীনের নীরব অভিযান, সাবমেরিন যুদ্ধে এগোতেই কৌশলগত মানচিত্র তৈরি

                       

মার্চ ২৯, ২০২৬
                   

দশদিক ডেস্ক : : 

প্রশান্ত, ভারত ও আর্কটিক মহাসাগরের গভীরে নীরবে বড় ধরনের সামুদ্রিক অভিযান চালাচ্ছে চীন। সমুদ্রের তলদেশের বিস্তারিত মানচিত্র তৈরি এবং পানির নিচে বিস্তৃত পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সাবমেরিন যুদ্ধে কৌশলগত সুবিধা অর্জনই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চীনের গবেষণা জাহাজ *‘ডং ফাং হং–৩’* গত দুই বছরে তাইওয়ান, গুয়ামসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অঞ্চলের আশপাশে বারবার যাতায়াত করেছে। একইসঙ্গে ভারত মহাসাগরের কৌশলগত এলাকাগুলোতেও জাহাজটির তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।

নৌবিশেষজ্ঞদের মতে, সাবমেরিন যুদ্ধের ক্ষেত্রে সমুদ্রের তলদেশের সঠিক ও ত্রিমাত্রিক মানচিত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো এলাকায় জাহাজের পুনরাবৃত্ত চলাচল সাধারণত সেই অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণের ইঙ্গিত দেয়।

চীনের পক্ষ থেকে এসব কার্যক্রমকে জলবায়ু ও সামুদ্রিক গবেষণার অংশ হিসেবে দাবি করা হলেও বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ ও তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এর বড় অংশই সামরিক প্রয়োজনে ব্যবহারের উপযোগী তথ্য সংগ্রহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মানচিত্র ও সেন্সর নেটওয়ার্কের মাধ্যমে চীন একদিকে নিজেদের সাবমেরিন আরও নিরাপদ ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারবে, অন্যদিকে প্রতিপক্ষের সাবমেরিন সহজে শনাক্ত করার সক্ষমতাও বাড়াবে।

চীনের এই প্রকল্প একক কোনো উদ্যোগ নয়; বরং এটি একটি বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ, যেখানে কয়েক ডজন গবেষণা জাহাজ এবং শত শত সেন্সর ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অন্তত ৪২টি গবেষণা জাহাজ গত পাঁচ বছরে এ ধরনের কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক নৌ কর্মকর্তা পিটার স্কট বলেন, এসব জরিপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য চীনা সাবমেরিনের যুদ্ধ প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে এটি ভবিষ্যৎ নৌযুদ্ধে কৌশলগত ভারসাম্য বদলে দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের এই তৎপরতা মূলত সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ফিলিপাইন সংলগ্ন জলসীমা, গুয়াম ও হাওয়াইয়ের কাছাকাছি এলাকা এবং উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের মার্কিন ঘাঁটিগুলো।

এ প্রসঙ্গে ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার অধ্যাপক জেনিফার পার্কার বলেন, এত বড় পরিসরের গবেষণা কেবল খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানের জন্য হতে পারে না। বরং এটি গভীর সমুদ্রে শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলার পরিকল্পনারই অংশ।

চীনের এই কৌশলের কেন্দ্রে রয়েছে ‘সিভিল-মিলিটারি ফিউশন’ নীতি, যার মাধ্যমে বেসামরিক গবেষণা ও সামরিক প্রযুক্তিকে একত্রে ব্যবহার করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই নীতির ফলে সামুদ্রিক গবেষণার তথ্য সরাসরি সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজে লাগানো হচ্ছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ও সমুদ্রের তলদেশের মানচিত্র তৈরিতে নতুন করে জোর দিচ্ছে। তবে তারা সাধারণত সামরিক জাহাজ ব্যবহার করে এবং অনেক ক্ষেত্রে ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ রেখে অভিযান পরিচালনা করে থাকে।

চীনের ‘স্বচ্ছ মহাসাগর’ (Transparent Ocean) প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে দক্ষিণ চীন সাগর থেকে শুরু করে প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরজুড়ে সেন্সর নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করা হয়েছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পানির তাপমাত্রা, লবণাক্ততা ও স্রোতের তথ্য সংগ্রহ করে সাবমেরিন শনাক্তকরণ আরও সহজ করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সমুদ্রের নিচে এই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিযোগিতা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক সামরিক ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। এতে করে গভীর সমুদ্রই হয়ে উঠতে পারে আগামী দিনের নতুন কৌশলগত যুদ্ধক্ষেত্র।

 

AD/একাত্তরের কথা

সর্বশেষ - জাতীয়