একাত্তর ডেস্ক ::
বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণা বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, বিভিন্ন অসাধু এজেন্সির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং নতুন লাইসেন্স প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
সোমবার সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায় সরবি খাল থেকে কাটাগাং পর্যন্ত খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, বিদেশগামী কর্মীদের নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণ, ভাষা শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। যোগ্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে সরকারি ব্যবস্থাপনায় কর্মীদের বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা নিরাপদে গন্তব্য দেশে পৌঁছাতে পারেন এবং প্রতারণার শিকার না হন।
হাইটেক পার্ক ব্যবহারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্মিত কিন্তু অব্যবহৃত হাইটেক পার্কগুলোকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় যুবকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এসব স্থাপনাকে ট্রেনিং সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা হবে, যা দেশি ও বিদেশি কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
খাল পুনঃখনন কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী বলেন, অতীতে এ কর্মসূচির ফলে দেশের খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছিল এবং চাল রপ্তানিও সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে এই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষি ব্যবস্থায় বিরূপ প্রভাব পড়ে। বর্তমানে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। খাল পুনঃখননের মাধ্যমে বর্ষার পানি সংরক্ষণ করা গেলে সেচ ব্যবস্থার উন্নতি হবে এবং কৃষকরা বছরে একাধিক ফসল উৎপাদনে সক্ষম হবেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদার, কোম্পানিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম খান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আতাউর রহমানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
পরে মন্ত্রী কোম্পানিগঞ্জের তেলিখাল ইউনিয়নে স্টোন ক্রাশার জোন ও ট্রাক স্ট্যান্ডের জন্য প্রস্তাবিত স্থান, পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নে মাদ্রাসা ট্রেনিং সেন্টারের জন্য নির্ধারিত জায়গা পরিদর্শন করেন। এছাড়া পূর্ব ইসলামপুর এলাকায় ভোলাগঞ্জ-দয়ারবাজার-ভাটরাই সড়কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।




















