দশদিক ডেস্ক : :
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আসন্ন আলোচনায় ইরান তাদের প্রস্তাবিত ‘১০ দফা পরিকল্পনা’কেই প্রধান ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছে। তেহরানে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত রাভানচি।
তিনি বলেন, ইরান সবসময় কূটনীতি ও সংলাপকে স্বাগত জানায়, তবে তা হতে হবে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত। কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি এমন হওয়া উচিত নয়, যাতে আক্রমণকারী পক্ষ পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করতে পারে। যথাযথ নিশ্চয়তা ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি মেনে নেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বৈঠকে সাম্প্রতিক সংঘাত প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জেনেভায় চলমান কূটনৈতিক আলোচনার সময় সামরিক হামলা চালিয়েছে। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তিনি আরও জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতে ইরান একাধিক শক্তিধর রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। তবে তাদের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিরোধ এবং জনগণের ঐক্যের কারণে প্রতিপক্ষকে কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তনে বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
১০ দফা পরিকল্পনার উল্লেখযোগ্য দিক
ইরানের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
* অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার
* ইরানের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
* হরমুজ প্রণালী-এর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা
* ভবিষ্যতে আগ্রাসন না চালানোর আইনি গ্যারান্টি
বর্তমানে পাকিস্তান-এর মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে। এই সময়ের মধ্যেই ইসলামাবাদে দুই পক্ষ আলোচনায় বসবে। তবে তেহরান স্পষ্ট করেছে, এই সংলাপ যুদ্ধের সমাপ্তি নয়; বরং এটি তাদের কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার একটি অংশ।
প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি আশ্বাস দিয়ে তাখত রাভানচি বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা কার্যক্রম কেবল তাদের ভূখণ্ডে থাকা শত্রুঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছে এবং তা প্রতিবেশীদের জন্য কোনো হুমকি নয়।
এর আগে ৮ এপ্রিল ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে দাবি করে, এই সংঘাত দেশটির জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক বিজয়’, যা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করেছে।
AD/একাত্তরের কথা



















