একাত্তর ডেস্ক : :
মুলতবি হওয়া বৈঠক পুনরায় শুরু হয়েছে জাতীয় সংসদ-এর প্রথম অধিবেশনে। ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে নির্ধারিত আলোচনাকে ঘিরে আজ সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তুমুল বিতর্কের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় অধিবেশন শুরু হয়। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান-এর আনা একটি মুলতবি প্রস্তাবের ওপর দুই ঘণ্টা আলোচনা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আজকের কার্যসূচির শেষ বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত।
ডেপুটি স্পিকারের রুলিং অনুযায়ী, এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা তাদের অবস্থান তুলে ধরবেন। তবে গত রোববারের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ডেপুটি স্পিকারের মধ্যে হওয়া বাক্যবিনিময়ের জেরে আজকের আলোচনা উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২৯ মার্চের অধিবেশনে। সেদিন স্পিকারের অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার অধিবেশন পরিচালনা করেন। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা সংসদ মুলতবি করে ‘জুলাই সনদ’ ও ‘সংস্কার পরিষদ’ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার দাবি জানান। কার্যপ্রণালি বিধির ৬৫(২) ধারা অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকার আজকের দিনটি আলোচনার জন্য নির্ধারণ করেন।
তবে রুলিং ঘোষণার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নোটিশ সংশোধনের প্রস্তাব দিলে সংসদে তাৎক্ষণিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ডেপুটি স্পিকার নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে সদস্যদের আসনে বসার নির্দেশ দেন এবং পুনরায় বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে থামিয়ে দেন।
সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আজকের আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উত্থাপিত সংশোধনের বিষয়টি নতুন করে বিতর্ক তৈরি করে কি না—সেদিকেই সবার নজর থাকবে। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছেন, স্পিকারের রুলিংয়ের পর এ বিষয়ে আর বিতর্কের সুযোগ নেই এবং তারা তাদের দাবিগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরবেন।
মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা থাকায় আজ সংসদে সদস্যদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারপক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। পাশাপাশি বিরোধী দলও শক্ত যুক্তি উপস্থাপনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
সব মিলিয়ে, আজকের অধিবেশন প্রাণবন্ত হলেও তা যে বিতর্কমুখর হতে যাচ্ছে—এ বিষয়ে কোনো সংশয় নেই।
AD/একাত্তরের কথা




















