একাত্তর ডেস্ক ::
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, ইলিশ সম্পদ রক্ষা ও টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে সরকার সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ৭ থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত দেশব্যাপী ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬’ উদযাপিত হবে।
আজ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি, সচিব মো: দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিয়া হায়দার চৌধুরী এবং মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মন্ত্রী বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও মৎস্য অধিদপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগে ইলিশের টেকসই উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা সরকারের অঙ্গীকার। জাটকা ও প্রজননক্ষম ইলিশ সংরক্ষণ, নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা, অভয়াশ্রম স্থাপন, এবং মৎস্য সংরক্ষণ আইনের বাস্তবায়ন এরই মধ্যে ফলপ্রসূ হচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে ৫ লাখ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, নদী ভরাট, জলবায়ু পরিবর্তন, নদী দূষণ ও মৎস্যসম্পদের ওপর চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ইলিশ উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সকলকে সঙ্গে নিয়ে মন্ত্রণালয় এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে।
তিনি বলেন, ইলিশ জাতীয় মাছ ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে ইলিশ ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। ইলিশ আহরণে প্রায় ৬ লক্ষ লোক সরাসরি এবং ২০-২৫ লক্ষ লোক পরিবহন, বিক্রয়, জাল ও নৌকা তৈরী, বরফ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি কাজে যুক্ত।
মন্ত্রী জানান, জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ দেশের ইলিশসমৃদ্ধ ২০টি জেলায় পালিত হবে। তিন দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও সচেতনতা মূলক কার্যক্রম হবে। সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ৭ এপ্রিল চাঁদপুর সদরে অনুষ্ঠিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘জাটকা ধরা থামাই যদি, ইলিশে ভরবে সাগর-নদী’।
ইলিশ রক্ষায় সরকার ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ, প্রজনন মৌসুমে ২২ দিন ইলিশ আহরণ বন্ধ, ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা ধরা, পরিবহন ও বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, ৬টি ইলিশ অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা, ৩১৮৮ বর্গকিমি এলাকায় সামুদ্রিক সংরক্ষিত অঞ্চল ঘোষণা এবং জেলেদের জন্য ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ইলিশের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, উৎপাদন বাড়লে সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে এবং বাজারে দাম স্বাভাবিক হবে। তিনি আরও বলেন, উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া আরও উন্নত ও কার্যকর করার জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, গত দুই মাসে ৪০ হাজার জেলে পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৮০ কেজি চাল, ১২ কেজি আটা, ১০ কেজি তেল, ৪ কেজি চিনি, ৮ কেজি ডাল এবং ১৬ কেজি আলু। তিনি বলেন, অতীতে জেলেরা এত পরিমাণ সহায়তা পায়নি। সরকার কোনো অনিয়মকে প্রশ্রয় দেবে না এবং যেখানে অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেখানে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
AD/একাত্তরের কথা




















