সিলেটে নিজেকে ডিজিএফআই-এর মেজর পরিচয় দিয়ে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভনে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মো. নাহিদুজ্জামান রানা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, কানাডা, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ওয়ার্ক পারমিট, স্টুডেন্ট ভিসা ও ভিজিট ভিসা করে দেওয়ার কথা বলে ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৯৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়।
ঘটনার শিকার ব্যবসায়ী মাছুম আহমদ সিলেট নগরীর ‘ফেইথ এসোসিয়েটস’ নামের একটি স্টুডেন্ট ও ভিজিট ভিসা প্রসেসিং প্রতিষ্ঠানের মালিক। তিনি এ ঘটনায় সিলেট অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কোতোয়ালী সি আর মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত নাহিদুজ্জামান রানা নিজেকে ডিজিএফআই-এর একজন মেজর হিসেবে পরিচয় দিয়ে সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহরের গার্ডেন টাওয়ারে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন। একই ভবনে বসবাসের সুবাদে বাদীর পরিবারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়।
পরবর্তীতে রানা নিজেকে বৈধ ভিসা প্রসেসিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত দাবি করে ‘এন আর এসোসিয়েটস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র দেখান। এরপর ৩০ জন ব্যক্তির কানাডা স্কুলিং ভিসা, যুক্তরাজ্যের ওয়ার্ক পারমিট, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ক পারমিট এবং অস্ট্রেলিয়ার ভিজিট ভিসা করে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, প্রতিটি ভিসা ফাইলের জন্য অগ্রিম টাকা নেওয়ার কথা বলে ২০২৪ সালের ১৪ মার্চ থেকে ২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও নগদ লেনদেনের মাধ্যমে সর্বমোট ৯৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা গ্রহণ করা হয়।
তবে টাকা নেওয়ার পর কোনো ভিসা সংক্রান্ত নথিপত্র বা কার্যকর অগ্রগতি দেখাতে পারেননি অভিযুক্তরা। একপর্যায়ে নাহিদুজ্জামান রানা সিলেট ছেড়ে ঢাকার বারিধারায় চলে যান এবং সিলেটের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ভাড়া বাসা বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং একপর্যায়ে প্রাণনাশ ও গুমের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে মামলায়।
মামলায় নাহিদুজ্জামান রানা, তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা স্মৃতি, মো. আবু সায়েম, মোহাম্মদ আব্দুস সালাম ও মোছা. সালমা বেগমকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রানা কারাগারে, তার স্ত্রী জামিনে রয়েছেন এবং অন্য আসামিরা পলাতক বলে জানা গেছে।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে। তদন্ত শেষে পিবিআই আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তবে মামলাটি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগের সত্যতা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।




















