একাত্তর ডেস্ক ::
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় গণশুনানিতে অংশ নিয়ে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেছেন, তিনি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর এমপি নন, বরং হাওর এলাকার জনগণই তাঁর অভিভাবক। শনিবার (১১ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১২টা থেকে বিকেল সোয়া ৩টা পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সরাসরি তাদের সমস্যা ও অভিযোগ তুলে ধরেন। গণশুনানিতে শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ, কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
গণশুনানিতে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, “আমার কোনো দোষ-ত্রুটি থাকলে নির্দ্বিধায় জানান। লিখিতভাবেও অভিযোগ দিতে পারেন। আমি নিজেকে শুধরে নিতে চাই।” তিনি আরও জানান, তাঁর নির্বাচনী এলাকায় কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না।
তিনি দলমত নির্বিশেষে উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করে বলেন, “কে ভোট দিয়েছে, কে দেয়নি—সেই হিসাব আমি করব না। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে চাই।”
গণশুনানিতে উঠে আসা সমস্যার প্রেক্ষিতে তিনি হাওরের ডুবন্ত সড়ক সংস্কার, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, গোরাটের মাটি ভরাট ও পাকাকরণ, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ল খনন, ফসল রক্ষায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং কমিউনিটি ক্লিনিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কারের আশ্বাস দেন।
এ সময় তিনি নিজ দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম বা আত্মসাৎ সহ্য করা হবে না।
গণশুনানিতে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী সভাপতিত্ব করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায়সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয়রা নিজ নিজ এলাকার নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রতি মাসে বিভিন্ন উপজেলায় গণশুনানি আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছিলেন এমপি কামরুল। ধর্মপাশায় এই আয়োজনের মাধ্যমে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন শুরু হলো।



















