Ekattorer Kotha
শনিবার , ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৩রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আলোচিত
  5. ইপেপার
  6. ক্রিকেট
  7. খুলনা
  8. খেলা
  9. চট্রগ্রাম
  10. জাতীয়
  11. ঢাকা
  12. দেশের ভেতরে
  13. প্রবাসের কথা
  14. প্রযুক্তি
  15. প্রেসবক্স

তীব্র লোডশেডিংয়ে অচলপ্রায় সিলেট

চাহিদা-সরবরাহ সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চাপ

                       

এপ্রিল ১৮, ২০২৬
                   

রিটন আহমদ দিপু : :

সিলেট মহানগরীসহ বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ঘনঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনে-রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে, যা নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে।
সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা গেছে, সিলেট বিভাগে দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ২ হাজার ৩৪০ মেগাওয়াট হলেও স্থানীয় চাহিদা দৈনিক প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট। কিন্তু সিলেটের উৎপাদন কেন্দ্রগুলো থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করার পর সেখান সিলেটে বিদ্যুৎ বরাদ্দ করা হচ্ছে দৈনিক মাত্র ৪০০ মেগাওয়াটের মতো। ফলে প্রতিদিনই ২৫০-৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি থাকছে। এই ঘাটতি সামাল দিতে বিদ্যুৎ বিভাগকে বাধ্য হয়ে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। অর্থাৎ, সিলেটে উৎপাদিত বিদ্যুতে দেশ আলোকিত হলেও, সিলেটবাসীকে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে প্রতিদিন।
সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দিনে ৪ থেকে ৮ বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। প্রতিবারই ৩০ মিনিট থেকে শুরু করে কখনো কখনো ২-৩ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। বিশেষ করে রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে শিক্ষাখাত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মজীবনে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, অফিস-আদালতের কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটছে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্কেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
এ পরিস্থিতির জন্য সংশ্লিষ্টরা একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের অনিয়ন্ত্রিত চার্জিংকে দায়ী করছেন। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা অসংখ্য গ্যারেজ ও চার্জিং পয়েন্টে সারারাত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এসব যানবাহনের ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হচ্ছে। এতে বিদ্যুতের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং সামগ্রিকভাবে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্যহীনতা দেখা দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুতের চাহিদা অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করে চার্জিং করার অভিযোগও রয়েছে, যা বিদ্যুতের অপচয় ও সিস্টেম লস বাড়াচ্ছে। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি আরও বাড়ছে।
ঘাসিটুলা ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ বলেন, বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এভাবে অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ চলতে থাকলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বন্দরবাজার লালদিঘীরপাড় ব্যবসায়ী সুজন মিয়া জানান, গত কয়েক দিন ধরে বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে তার ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। তিনি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন।
সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি এবং বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলা শাখার মহাসচিব আব্দুর রহমান রিপন বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই মার্কেট বন্ধ রাখা হলেও দিনের বেলায় ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা পরিচালনা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। তিনি আরও বলেন, জেনারেটর চালিয়ে ব্যবসা চালু রাখারও সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে, কারণ প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সিলেট বিতরণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন জানান, বৃহত্তর সিলেটে বর্তমানে পিডিবির দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ১৭৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে কেন্দ্রীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৪৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ ৩০ মেগাওয়াট ঘাটতির কারণে এই লোডশেডিং হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুতের চাহিদাও এর চেয়ে বেশি বলে জানান তিনি।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি সংকট, গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি এবং উৎপাদন সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি এই অতিরিক্ত চাপও বিদ্যুৎ সংকটকে তীব্র করছে। তারা বলছেন, চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য আনতে হলে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চার্জিং ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনতে হবে।
এদিকে নগরবাসী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় সুষ্ঠু পরিকল্পনা, অবৈধ সংযোগ বন্ধ, নির্ধারিত চার্জিং সময়সূচি প্রণয়ন এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।
সচেতন মহল মনে করছে, এখনই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ না করলে গ্রীষ্ম মৌসুমে সিলেটের বিদ্যুৎ সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তাই দ্রুত বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এই সংকট নিরসনের জোর দাবি উঠেছে।

সর্বশেষ - জাতীয়

আপনার জন্য নির্বাচিত