রিটন আহমদ দিপু : :
বিশ্বকাপের উন্মাদনায় ভাসছে পৃথিবী। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই শুরু হচ্ছে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর-ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। মধ্যরাত পেরুতেই মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠবে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই ক্রীড়া মহাযজ্ঞের। এবারই প্রথম ৪৮টি দেশ নিয়ে, ১০৪টি ম্যাচের বিশাল আয়োজন নিয়ে তিনটি দেশ-যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করছে বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে সিলেট। নগরীর প্রতিটি অলিগলি, বাসাবাড়ির ছাদ, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এমনকি গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকাতেও উড়ছে প্রিয় দলের পতাকা। কোথাও আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা, কোথাও ব্রাজিলের হলুদ-সবুজ, আবার কোথাও ফ্রান্স, জার্মানি, পর্তুগাল কিংবা স্পেনের পতাকায় রঙিন হয়ে উঠেছে পুরো জনপদ। ফুটবল উন্মাদনায় যেন ঘুম হারাম হয়ে গেছে সিলেটবাসীর। বিশ্বকাপ এলেই সিলেটে শুরু হয় অন্যরকম এক আবেগের লড়াই। নগরীর জিন্দাবাজার, আম্বরখানা, উপশহর, মদিনা মার্কেট, টিলাগড়, কাজিটুলা, উত্তর কাজিটুলা, ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই, খাসদবির, শেখঘাট, ঘাসিটুলা, নয়াসড়ক, জেলরোড, কুমারপাড়া, মীরাবাজার, শাহী ঈদগাহ থেকে শুরু করে গ্রামেও এখন একটাই আলোচনা-কারা জিতবে বিশ্বকাপ?
বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে ৫০ থেকে ১০০ ফুট দীর্ঘ বিশাল পতাকা টানানো হয়েছে ভবনের ছাদে। কেউ কেউ আবার পুরো বাড়ির দেয়ালজুড়ে এঁকেছেন প্রিয় দলের প্রতীক। সন্ধ্যা নামতেই চায়ের দোকান, রেস্টুরেন্ট ও পাড়ার আড্ডায় শুরু হচ্ছে বিশ^কাপ বিশ্লেষণ। কে ফেবারিট, কার আক্রমণভাগ শক্তিশালী, কোন তারকা এবার বিশ্বমঞ্চ কাঁপাবেন-এসব নিয়েই চলছে উত্তপ্ত আলোচনা।
সিলেটে বরাবরের মতোই সবচেয়ে বেশি উন্মাদনা আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকে ঘিরে। দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে চলছে নীরব প্রতিযোগিতা। কে বড় পতাকা টানাবে, কার সমর্থক বেশি-এসব নিয়ে চলছে হাস্যরস আর খুনসুটি। তবে এবার ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, স্পেন, জার্মানি ও পর্তুগালের সমর্থকরাও পিছিয়ে নেই।
বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে বিশ^কাপ নিয়ে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে পছন্দের দলের পক্ষে প্রচারণা। ফেসবুক প্রোফাইল, কভার ছবি, ভিডিও স্ট্যাটাস-সবখানেই এখন বিশ্বকাপের ছোঁয়া।
বিশ^কাপকে কেন্দ্র করে সিলেটের বাজারগুলোতেও জমে উঠেছে ব্যবসা। নগরীর ক্রীড়া সামগ্রীর দোকানগুলোতে দিনভর ভিড় করছেন ফুটবলপ্রেমীরা। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সি ও পতাকা। দোকানিরা বলছেন, গত কয়েক দিনের তুলনায় বিক্রি কয়েকগুণ বেড়েছে।
শুধু শহর নয়, গ্রামের বাজারেও এখন বিশ^কাপের আমেজ। অনেক এলাকায় বড় পর্দায় খেলা দেখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কেউ বাড়ির উঠানে, কেউ ক্লাব প্রাঙ্গণে, আবার কেউ কমিউনিটি সেন্টারে বড় স্ক্রিন বসিয়ে আয়োজন করছেন খেলা দেখার।
২০২৬ বিশ্বকাপকে বলা হচ্ছে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আয়োজন। এবার প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে। মোট ১৬টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে ১০৪টি ম্যাচ। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৯ জুলাই। আয়োজকরা বলছেন, এবারের বিশ্বকাপ শুধু ফুটবল নয়, বৈশ্বিক সংস্কৃতি ও বিনোদনেরও এক মহামিলনমেলা হতে যাচ্ছে।
বিশ্বকাপ ঘিরে ইতোমধ্যে বিশে^র কোটি কোটি দর্শকের মতো সিলেটবাসীর মধ্যেও শুরু হয়েছে উৎসব। রাত পেরিয়ে প্রথম বাঁশি বাজার অপেক্ষায় এখন পুরো নগরী। ফুটবলের রঙে রঙিন সিলেট যেন জানিয়ে দিচ্ছে-বিশ^কাপ মানেই আবেগ, আর সেই আবেগে আজ ভাসছে পুরো সিলেট।




















