হবিগঞ্জ প্রতিনিধি::
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় নিজ বসতঘর থেকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী (৬৩) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে তদন্ত। একই ঘর থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া তার পুত্রবধূ তামান্না আক্তারকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
নিহত ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যসমেত গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী। সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই সময় তার পুত্রবধূ তামান্নাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় জীবিত পাওয়া যায়, যা প্রথমে ঘটনাটিকে চুরি বা ডাকাতির ঘটনা বলে ধারণা তৈরি করে।
তবে তদন্তে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহতের ভাই বাদী হয়ে করা মামলায় পুত্রবধূ তামান্না আক্তার ছাড়াও শিপন মিয়া এবং তার দুই সহযোগীসহ মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তামান্নার স্বামী রফিকুল ইসলাম চৌধুরী প্রবাসে অবস্থান করছেন। টিকটকের মাধ্যমে একই এলাকার শিপন মিয়ার সঙ্গে তামান্নার পরকীয়া প্রেমেরে সম্পর্ক গড়ে উঠে বলে তদন্তে জানা গেছে। ঘটনার রাতে শিপন মিয়া দুই সহযোগীকে নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী বাধা দিলে তাকে হাত-পা বেঁধে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
ঘটনার পর এটি চুরির ঘটনা হিসেবে দেখানোর জন্য ঘরের ভেতরে ‘নাটক’ সাজানো হয় এবং তামান্নাকেও বেঁধে রাখা হয় বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
র্যাবের অভিযানে তামান্না আক্তারকে আটক করে পরে নবীগঞ্জ থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ জানায়, তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোনায়েম মিয়া বলেন, বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে তাদের বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা যাচ্ছে না।



















