দশদিক ডেস্ক : :
ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন ও জটিল মোড়ে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক ‘ডিক্যাপিটেশন স্ট্রাইক’ বা শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার পর ইরান দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়বে—এমন ধারণা ভেঙে দিয়ে দেশটি এখন দীর্ঘমেয়াদি ও অপ্রতিসম যুদ্ধে প্রবেশ করেছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষণভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ইন্টেলনিউজ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর যৌথ হামলায় ইরানের কমান্ড কাঠামো বড় ধাক্কা খেলেও তা যুদ্ধের সমাপ্তি নয়, বরং নতুন এক সংঘাতের সূচনা।
বিশ্লেষণে বলা হয়, হামলায় ইরানের বাস্তববাদী নেতৃত্বের বড় অংশ নিহত হওয়ায় ক্ষমতার কেন্দ্র এখন সরাসরি আইআরজিসি-এর কট্টরপন্থীদের হাতে চলে গেছে। ফলে আপসের পথ সংকুচিত হয়ে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অপ্রতিসম যুদ্ধের পথে ইরান
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান এখন ‘অপ্রতিসম যুদ্ধনীতি’ গ্রহণ করেছে—যেখানে সরাসরি সামরিক শক্তির বদলে দীর্ঘস্থায়ী চাপ, মানসিক ক্লান্তি ও কৌশলগত আঘাতের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়। ১৯৮০-এর দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা এই কৌশলের ভিত্তি।
নতুন নেতৃত্বের অধীনে ইরানে ‘প্রতিরোধের অর্থনীতি’ জোরদার করা হয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও চাপ সহ্য করে দীর্ঘ লড়াই চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।
হরমুজ প্রণালী: সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু
এই সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথটি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ইরান আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই কৌশল যুদ্ধকে কেবল আঞ্চলিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখছে না; বরং তা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
রাশিয়া-চীনের নীরব সমর্থন
সংঘাতে রাশিয়া ও চীন-এর ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া ইরানকে লক্ষ্যবস্তুর তথ্য সরবরাহ করছে, আর চীন জ্বালানি ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহে সহায়তা দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এতে একদিকে ইরান শক্তি পাচ্ছে, অন্যদিকে বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সংকট
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র-এর সামনে কঠিন কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য স্থল অভিযান বা গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল দখলের পরিকল্পনা থাকলেও তা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।
একইসঙ্গে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান চালানোর বিষয়টিও আলোচনায় থাকলেও তা বাস্তবায়ন অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ।
যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে?
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বর্তমানে যুদ্ধের গতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেই যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল-এর। বরং পরিস্থিতি এখন অনেকটাই ইরানের কৌশলগত পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।
সমরবিদ কার্ল ভন ক্লজউইটজ-এর তত্ত্বের উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব সবসময় যুদ্ধ জয়ের নিশ্চয়তা দেয় না। বরং ধৈর্য, কৌশল ও দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতিই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণ করে।
AD/একাত্তরের কথা




















