স্টাফ রিপোর্ট ::
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে ব্ল্যাকমেইল, চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সাইবার অপরাধী চক্রের দুই সদস্যকে আবারও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে সিলেট নগরীর জেল রোড এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির।
এর আগে ওই দুই ব্যক্তি সাংবাদিক মো. মোহিদ হোসেনকে ব্ল্যাকমেইল করে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ঢাকার গুলশান বাড্ডা লিংক রোডের টি-১২৮ নং বাসার বাসিন্দা মো. সালাহ উদ্দিন (৪০) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কাইতলা গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ শাহীন মাহমুদ (৫০)। এ মামলার অপর আসামি জিয়াউর রহমান পলাশ সরদার পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জানা গেছে, সিলেটের মানবাধিকার কর্মী ও এসএমপির ট্রফিক এডুকেশন নেটওয়ার্কের সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ আল (মামুন) সোমবার সাইবার নিরাপত্তা আইনে সিলেটের কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা ‘আমার দেশ’ এবং ‘জিয়াউর রহমান পলাশ সরদার’ নামে ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বানোয়াট, মানহানিকর ও উস্কানিমূলক তথ্য প্রচার করে আসছিলেন। পাশাপাশি সম্পাদিত (এডিট করা) ছবি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা চালানো হয়। মামলার বাদী মামুন অপপ্রচারের প্রতিবাদ করলে যুক্তরাজ্যের একটি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন সাইবার মাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আরও কোনো সংঘবদ্ধ চক্র বা রাষ্ট্রবিরোধী নেটওয়ার্ক জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ সাইবার অপরাধী চক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে দৈনিক একাত্তরের কথা পত্রিকার প্রধান ফটোসাংবাদিক, বাংলাদেশ মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিএমজেএ) সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এবং সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সদস্য মো. মোহিদ হোসেন অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত সাংবাদিক এটিএম আবু তুরাব হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার পর থেকে ‘জিয়াউর রহমান পলাশ সর্দার’, ‘আমার দেশ’ ও ‘সুরমার ডাক ফ্যামিলি’ নামের বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপ ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হয়। অপপ্রচার বন্ধ ও পোস্ট মুছে ফেলার বিনিময়ে মোহিদ হোসেনের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যা ও গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় গত ১৩ জুলাই শাহপরাণ (রহ.) থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন সাংবাদিক মোহিদ। এর প্রেক্ষিতে গত ১৭ জুলাই সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সালাহ উদ্দিন ও শাহীন মাহমুদকে গ্রেপ্তার করে।




















