একাত্তর ডেস্ক ::
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত মোহাম্মদ আলীকে (৪৫) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রবিবার (২২ মার্চ) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার পাথারিয়া বাজারে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় অন্তত ৩টি দোকান ও ৩টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই সময় ৭ জনকে আটক করা হয় এবং পরে তাদের পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সংঘর্ষে জড়িত দুই পক্ষই স্থানীয় বিএনপি নেতা ফারুক আহমদ ও আনছার উদ্দিনের সমর্থক।
পুলিশের ও প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্য অনুযায়ী, গাজীনগর গ্রামের আব্দুল মমিন মিয়া ও আঙ্গুর মিয়ার লোকজনের মধ্যে একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি মীমাংসার জন্য রাত ৯টার দিকে সালিস বৈঠক বসানো হয়। তবে বৈঠকের সময় মনির মিয়ার পক্ষের লোকজন আঙ্গুর মিয়ার মালিকানাধীন বারাকাত রেস্টুরেন্টে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পরে আঙ্গুর মিয়ার সমর্থকরা ঘটনাস্থলে এসে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষ চলাকালে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার দেখা যায়। পুলিশের উপস্থিতিতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
আঙ্গুর মিয়া অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তাদের দোকানপাটে হামলা চালানো হয়েছে এবং নগদ অর্থ ও মালামাল লুট করা হয়েছে। বারাকাত রেস্টুরেন্ট থেকে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং রিহান স্টোর থেকে আড়াই লাখ টাকা লুট করা হয়েছে। এছাড়া তার পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে আব্দুল মমিন মনির মিয়া বলেন, ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়া হয়, যার জেরে সংঘর্ষ বাধে। তিনি দাবি করেন, আঙ্গুর মিয়ার হামলায় তাদের কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
ঘটনায় আহত মোহাম্মদ আলীর পরিবার অভিযোগ করেছেন, সংঘর্ষের সময় তার বসতবাড়িতেও হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
শান্তিগঞ্জ থানার ওসি ওয়ালীউল্লাহ জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী আটক করা ৭ জনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে এবং সোমবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।




















