ডেস্ক রিপোর্ট : :
লিস্ট ডেভেলপড কান্ট্রিজ (এলডিসি) গ্র্যাজুয়েশন সামনে রেখে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা-এ এসএমই ফাউন্ডেশন আয়োজিত ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির আওতায় ১২টি ব্যাংক ও ৪টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় শিল্পখাতকে এগিয়ে নিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য সহজ শর্তে ও সময়োপযোগী অর্থায়ন নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশনকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, রপ্তানিমুখী শিল্পের বিকাশে সাশ্রয়ী জ্বালানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও বর্তমানে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
খন্দকার মুক্তাদির উল্লেখ করেন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া সহজ শর্তের ঋণ সুবিধা সীমিত হবে, তাই অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি এখন অত্যন্ত জরুরি।
তিনি জানান, প্রতিবছর ২০ থেকে ২২ লাখ নতুন কর্মক্ষম জনশক্তি শ্রমবাজারে যুক্ত হচ্ছে, তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা অপরিহার্য।
লজিস্টিক খরচ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এ খাতে ব্যয় জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক গড় প্রায় ১০ শতাংশ—এই ব্যবধান কমাতে না পারলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা কঠিন হবে।
অনুষ্ঠানে শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, উদ্যোক্তাদের সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জিডিপিতে অবদান বাড়াতে সরকার কাজ করছে।
অনুষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, চুক্তির আওতায় এসএমই খাতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে রিভলভিং ফান্ড থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা এবং জাইকা ও বিআইএফএফএল-এর সহযোগিতায় কৃষিভিত্তিক শিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত খাতে আরও ১২৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হবে।
একজন উদ্যোক্তা সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন, যার সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ শতাংশ।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার, উইমেন এন্ট্রাপ্রেনিউর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি নাসরীন ফাতেমা আউয়ালসহ বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।
AD/একাত্তরের কথা



















