একাত্তর ডেস্ক ::
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থেকে সদর উপজেলা পর্যন্ত খোয়াই নদীর বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন ঝুঁকি বাড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার কামড়াপুর, চানপুর, গরু বাজার, গোবিন্দপুর, রামপুর, ইনাতাবাদ, মাছুলিয়া, তেতৈয়া, মশাজান, পাইকপাড়া এবং শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার কলিমনগর, আলাপুর, পূর্ব লেঞ্জাপাড়া ও লস্করপুরসহ চুনারুঘাটের বিভিন্ন এলাকায় রাতদিন ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। একই সঙ্গে এক্সকাভেটর দিয়ে নদীর পাড় কেটে মাটি সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
অভিযোগ রয়েছে, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অমান্য করে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। উত্তোলিত বালু পরিবহনে অবৈধ ট্রাক্টর ব্যবহার করায় গ্রামীণ সড়কগুলোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এর আগেও ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নদীর বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। তখন সেনাবাহিনীর সহায়তায় বস্তা ফেলে কোনোমতে বাঁধ রক্ষা করা হলেও বর্তমানে আবারও বালু উত্তোলন শুরু হওয়ায় নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
নদীপাড়ের বাসিন্দা ফারুক আহমেদ বলেন, “নদী থেকে বালু ও চর কেটে নেওয়ায় পাড় দুর্বল হয়ে পড়ছে। বর্ষা এলে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিতে পারে। প্রভাবশালীরা এসবের সঙ্গে জড়িত থাকায় কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পায় না।”
স্থানীয় বাসিন্দা মুহিন মিয়া জানান, ট্রাক ও ট্রাক্টরের অব্যাহত চলাচলে গ্রামীণ সড়কগুলো ভেঙে পড়ছে। বৃষ্টির সময় এসব সড়কে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
আরেক বাসিন্দা আব্দুর রউফ বলেন, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী মহল এসব কাজে জড়িত থাকায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
এদিকে পরিবেশবিদরা বলছেন, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করছে। এতে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জুল সোহেল বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পরিবেশগত বিপর্যয় আরও বাড়বে।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক জি এম সরফরাজ বলেন, “অবৈধ কর্মকাণ্ডে কেউ ছাড় পাবে না। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




















