একাত্তর ডেস্ক ::
হবিগঞ্জ শহরে কিশোরদের হাতে প্রাণঘাতী অস্ত্রের মহড়া ও তা ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে চার দিনে অন্তত পাঁচবার এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা—শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসংলগ্ন সড়ক থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনেও এসব মহড়ার ঘটনা ঘটায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের নজরে আসে বিষয়টি। অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত সাতজনকে আটক করা হয়েছে।
জানা গেছে, সর্বশেষ বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ধারণ করা একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। ভিডিওটি বাস্তব, নাকি সম্পাদিত, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকায় পুলিশ সেটি যাচাইয়ে বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
এর আগে ২৬ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি রাজনগর, মহিলা কলেজ ও টাউন হল সড়ক এলাকায় কয়েক দফা কিশোরদের হাতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে দৌড়ঝাঁপের ভিডিও ছড়ায়। একই ধরনের ঘটনা ঘটে ১৩ মার্চ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে।
সেই দিন সন্ধ্যায় মহড়ার পর সেখানে বসে থাকা এক তরুণ ও এক তরুণীকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে, যা নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, রামদা, চাপাতিসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র হাতে দলবদ্ধভাবে কিশোররা দৌড়াদৌড়ি করছে। কেউ কেউ সেই দৃশ্য ধারণ করছে, যা পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন ভিডিওতে ১০ থেকে ২০ জনের বেশি কিশোরের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) হবিগঞ্জের সভাপতি ও সিনিয়র আইনজীবী ত্রিলাক কান্তি চৌধুরী বলেন, এ ধরনের প্রকাশ্য অস্ত্র প্রদর্শন জনমনে ভয় সৃষ্টি করছে। এটি স্পষ্টভাবে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের লঙ্ঘন। প্রশাসনকে দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াছমিন খাতুন বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া ভিডিওগুলোর ভিত্তিতে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। সর্বশেষ ভিডিওটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেটি আসল নাকি কৃত্রিমভাবে তৈরি, তা নিশ্চিত হতে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে।




















