সীমিত সম্পদের বাস্তবতায়ও দেশের মানুষের স্বস্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করেছে সরকার বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় সংসদে প্রবেশের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের প্রথম বাজেট হওয়ায় এ বাজেট ঘিরে জনগণের প্রত্যাশাও অনেক বেশি। অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল যেন সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, সে বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নানা সংকট কাটিয়ে অর্থনীতিকে পুনরায় শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
আজ বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী। নতুন সরকারের এটি প্রথম বাজেট এবং দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেটগুলোর একটি। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভর্তুকির চাপ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বাড়তি ব্যয় এবং ঋণের সুদ পরিশোধের বাড়তি দায় মাথায় নিয়েই এ বাজেট তৈরি করা হয়েছে।
সরকারের দাবি, অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই হবে এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে আগামী অর্থবছরে তা সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের পরও প্রস্তাবিত বাজেটে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকছে।
বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রতিফলনও দেখা যাবে এবারের বাজেটে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে উচ্চাভিলাষী আয়-ব্যয়ের পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হচ্ছে। যদিও বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অনেকের কাছেই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাগুলো বেশ চ্যালেঞ্জিং বলে মনে হচ্ছে।
আগামী অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে সাড়ে ৬ শতাংশ। অথচ গত তিন বছর ধরে প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের আশপাশে রয়েছে। অন্যদিকে, বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ।
এই বিশাল বাজেট বাস্তবায়নে আগামী অর্থবছরে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। বাকি ৯১ হাজার কোটি টাকা আসবে এনবিআর-বহির্ভূত বিভিন্ন উৎস থেকে।
রাজস্ব আয়ের বাইরে বাজেট ঘাটতি মেটাতে দেশি-বিদেশি উৎস থেকে মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেটের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার দাঁড়াচ্ছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থনৈতিক চাপ ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করা, প্রবৃদ্ধির গতি ফিরিয়ে আনা এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যয় নিয়েই এবারের বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার।



















