Ekattorer Kotha
রবিবার , ২৯ মার্চ ২০২৬ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আলোচিত
  5. ইপেপার
  6. ক্রিকেট
  7. খুলনা
  8. খেলা
  9. চট্রগ্রাম
  10. জাতীয়
  11. ঢাকা
  12. দেশের ভেতরে
  13. প্রবাসের কথা
  14. প্রযুক্তি
  15. প্রেসবক্স

ভূমধ্যসাগরে সলিল সমাধি : সুনামগঞ্জের ১২ জনের প্রাণহানি

                       

মার্চ ২৯, ২০২৬
                   

একাত্তর ডেস্ক ::

লিবিয়া থেকে নৌকায় করে ইউরোপের দেশ গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ভাসতে ভাসতে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে সুনামগঞ্জের অন্তত ১২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহতদের স্বজনরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহতদের মধ্যে দিরাই উপজেলার ৬ জন, জগন্নাথপুর উপজেলার ৫ জন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার ১ জন রয়েছেন।

ভাগ্যক্রমে বেঁচে ফেরা এক যুবকের একটি ভিডিও শনিবার সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তিনি জানান, লিবিয়া থেকে মোট ৪৩ জনকে নিয়ে একটি নৌযান গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল। বড় নৌকার আশ্বাস দিলেও তাদের শেষ পর্যন্ত একটি ছোট হাওয়াই বোটে তুলে দেওয়া হয়। সেই বোটে পাঁচজন সুদানি নাগরিক এবং ৩৮ জন বাংলাদেশি ছিলেন।

ভিডিওতে ওই যুবক জানান, সাগরে দীর্ঘ সময় দিকভ্রান্ত হয়ে ভেসে থাকার ফলে খাবার ও পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। এতে একে একে অন্তত ১৮ জন মারা যান। নিহতদের অনেকের বাড়ি সুনামগঞ্জ ও সিলেট অঞ্চলে। মৃতদের মরদেহ দুই দিন পর্যন্ত নৌকায় রাখা হয়। পরে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে সেগুলো সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন যাত্রীরা।

নিহতদের মধ্যে দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারপাশা গ্রামের আবু সর্দারের ছেলে নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩২), মৃত ইসলাম উদ্দীনের ছেলে সাহান এহিয়া (২২), আব্দুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান (২৬), রাজানগর ইউনিয়নের রনারচর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৪০) এবং জগদল ইউনিয়নের বাসুরী গ্রামের সালিকুর রহমানের ছেলে সুহানুর রহমান (২২) রয়েছেন।

এ ছাড়া দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে তায়েব মিয়া (২৪) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবারের ধারণা, তিনিও একই নৌকায় ছিলেন এবং সাগরেই মারা গেছেন।

জগন্নাথপুর উপজেলার নিহতরা হলেন—পাইলগাঁও গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আমিনুর রহমান (৩৫), টিয়ারগাঁও গ্রামের আখলুছ মিয়ার ছেলে শায়ক মিয়া (২০), ইছগাঁও গ্রামের মো. আলী (২৩), বাউরি গ্রামের মো. সোহানুর রহমান (২৫) এবং পৌর এলাকার কবিরপুর গ্রামের মো. নাঈম (২৬)।

এ ছাড়া দোয়ারাবাজার উপজেলার বোগলাবাজার ইউনিয়নের কবিরনগর গ্রামের ফয়েজুর রহমানের ছেলে অভ্র ফাহিম (২০) মারা গেছেন বলে তার স্বজনরা জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি জানিয়েছে, উত্তর আফ্রিকার উপকূল থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় রাবারের নৌকায় করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হক চৌধুরী জানান, নিহতদের স্বজনরা প্রবাসে থাকা আত্মীয়দের কাছ থেকে মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশকে অবহিত করেছেন। দুর্গম এলাকার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি, তবে কয়েকজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।

অন্যদিকে জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল আলম বলেন, উপজেলার কয়েকটি গ্রামের পাঁচ যুবকের মৃত্যুর খবর স্থানীয়ভাবে পাওয়া গেছে। বিষয়টি যাচাই করে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

সর্বশেষ - জাতীয়