প্রায় এক যুগ পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আসছে নতুন বেতন কাঠামো। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপনের সময় এ বিষয়ে ঘোষণা দেবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন শুরু হবে।
অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্যে উল্লেখ করা হবে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গত প্রায় ১১ বছর ধরে একই বেতন কাঠামোর আওতায় বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির প্রভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
তবে আগামী অর্থবছরের বাজেটে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা থাকলেও বেতন-ভাতা খাতে বড় ধরনের অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়নি। প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ মোট ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ক্যাডার কর্মকর্তাদের বেতনের জন্য ১৩ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা, কর্মচারীদের বেতনের জন্য ৩০ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন ধরনের ভাতা বাবদ ৪৪ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা রাখা হয়েছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে বেড়ে ৮৪ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, জনপ্রশাসন খাতে আগামী অর্থবছরে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হতে পারে, যা চলতি অর্থবছরের মূল বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ৯৬ শতাংশ বেশি। তবে এই অতিরিক্ত অর্থের পুরোটা বেতন বৃদ্ধিতে ব্যয় হবে না। নতুন নিয়োগ, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন সমন্বয় এবং অবসরপ্রাপ্তদের অতিরিক্ত সুবিধাও এ বরাদ্দের আওতায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে তিন অর্থবছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এর মধ্যে আগামী অর্থবছরে সংশোধিত মূল বেতনের প্রায় ৫০ শতাংশ কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী জুলাই থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোয় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।




















