রিটন আহমদ দিপু ::
সিলেটে গত প্রায় ১৫-২০ দিনে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে বিদ্যুতের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করতে বিদ্যুৎ খাতে চাপ বাড়ায় লোডশেডিং আবারও অস্থিরতার একটি বড় কারণ।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রতিদিন নানা অঞ্চলেই দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চালু বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে খাদ্য প্রস্তুতি, পানির পাম্প, ইন্টারনেট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজের সমস্যা হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে এমন পরিস্থিতি আরও তীব্র—গড়ে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন।
সরকারি সূত্র বলছে, জ্বালানি তেলের সংকট ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য ওঠানামার প্রভাবে বিদ্যুত উৎপাদনে জ্বালানি ব্যবহারের খরচ বেড়ে গেছে, যার কারণে বিদ্যুৎ খাতে চাপ বাড়ছে। দেশের জ্বালানি সরবরাহ নানা কারণে সীমিত থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এদিকে জ্বালানি তেলের সমস্যা আরও লক্ষণীয় হয়েছে যখন সিলেট বিভাগে পেট্রোল পাম্প বন্ধ ঘোষণা, শিডিউলের বাইরে তেল বিক্রির ব্যাঘাত ও ব্যবসায়ী-সরকারি দফতরের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে।
সরকার লোডশেডিং কমাতে সময়ভিত্তিক পদক্ষেপ নিয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে সরকারি অফিসগুলোতে কার্যনির্বাহী সময় কমিয়ে ৯টা থেকে ৪টা করা হয়েছে এবং মার্কেট, শপিং সেন্টারগুলো সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে শীর্ষ সময়ের বিদ্যুৎ চাহিদা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
লোডশেডিংয়ের কারণে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভও করেছেন। তারা বলছেন, দিনের তাপমাত্রায় ঘরের ভেতর বিদ্যুৎ না থাকায় শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা এই পরিস্থিতি সমাধানে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে।
বিভিন্ন ব্যবসায়ীও জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ না থাকায় দোকান-ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, গাড়ি চার্জিং, খাদ্য সামগ্রী সংরক্ষণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে এবং গাড়ি চালকদের কাজের আয় কমছে।
বিদ্যুতের খরচ ও জ্বালানি তেলের দাম সম্পর্কিত সরকারিক কোনো সাম্প্রতিক মূল্য তালিকা বা মূল্য অধিবেশন প্রকাশিত হয়নি, তবে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বাজারে তেলের সাপ্লাই নিয়ন্ত্রণ ও রেশনিংয়ের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং এতে বিদ্যুতের অপচয় কমানোর জন্য সময়ভিত্তিক নিয়ম চালু করা হয়েছে।
সিলেটে লোডশেডিংয়ের এই নতুন সংকট নিয়ন্ত্রণে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সময়ভিত্তিক পদক্ষেপ ও সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।



















