একাত্তর ডেস্ক ::
তাহিরপুর উপজেলার শনি ও মাটিয়ান হাওরের বোরো ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাজারো কৃষক। আম্মকখালী ও আলমখালী বাঁধের নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়েও শেষ না হওয়ায় পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কায় হাওরপাড়ে উৎকণ্ঠা বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের মাড়ালা এলাকায় আম্মকখালী এবং দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের আলমখালী বাঁধ এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজের অনিয়ম ও পর্যাপ্ত মাটি ব্যবহার না করায় বাঁধগুলো শক্তভাবে নির্মাণ করা হয়নি। এতে সামান্য পানির চাপেই বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শনির হাওরের কৃষক কালাম মিয়া ও সাকিল মিয়া জানান, প্রতিবছর এই হাওরে বিপুল পরিমাণ বোরো ধান উৎপাদন হয়। কিন্তু এবার বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ায় তারা চরম উদ্বেগে রয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, পাহাড়ি ঢল নামলে হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকার ধান পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে।
একই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মাটিয়ান হাওরের কৃষক ফারুক মিয়া ও লতিফ মিয়া। তাদের ভাষ্য, অনেক আগেই বাঁধের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা অসম্পূর্ণ রয়েছে। এতে হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন অভিযোগ করেন, শুরু থেকেই হাওরের বাঁধ নির্মাণে নানা অনিয়ম ও অসচ্ছতা ছিল। তিনি বলেন, বিভিন্ন উপজেলায় পিআইসি একাধিকবার পরিবর্তন করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে পিআইসিরা বলছেন তারা মাত্র ৪২ শতাংশ বিল পেয়েছেন, অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ড দাবি করছে ৯২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে—যা প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।
তাহিরপুরে দায়িত্বপ্রাপ্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মনির হোসেন বলেন, আলমখালী ছাড়া অন্য সব বাঁধের মাটির কাজ শেষ হয়েছে। মাটি সংকট ও ঠিকাদার না পাওয়ায় আলমখালী বাঁধের কাজ বিলম্বিত হয়েছে। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, বৃষ্টির কারণে আম্মকখালী বাঁধের কাজ কিছুদিন বন্ধ ছিল। বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় দ্রুত কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাঁধের কাজ শেষ করা হবে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, সময়মতো বাঁধ নির্মাণ শেষ না হলে যেকোনো সময় পাহাড়ি ঢলে শনি ও মাটিয়ান হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। দ্রুত ও মানসম্মতভাবে বাঁধ নির্মাণ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।




















