দশদিক ডেস্ক : :
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর ওপর চাপ বাড়াতে নতুন কৌশল নিয়েছে ইরান। বড় আকারের হামলার পরিবর্তে ছোট ছোট কিন্তু ঘনঘন আঘাতের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে দেওয়ার পথেই হাঁটছে তেহরান—যার পেছনে রাশিয়ার যুদ্ধকৌশলের প্রভাব রয়েছে বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনীয় সামরিক কর্মকর্তারা।
ওয়াশিংটন ডিসিতে German Marshall Fund–এ আয়োজিত এক আলোচনায় সাবেক সরকারি কর্মকর্তা, বিশ্লেষক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদের মতে, গত বছরের বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর থেকে ইরান তাদের রণকৌশলে পরিবর্তন এনেছে। বর্তমানে তারা স্বল্পসংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করলেও হামলার সংখ্যা বাড়িয়েছে এবং লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
Institute for the Study of War–এর তথ্য অনুযায়ী, ইরান তাদের সামরিক অপারেশন বিকেন্দ্রীকরণ করেছে এবং মাঠপর্যায়ের কমান্ডারদের ‘ফায়ার অ্যাট উইল’ নির্দেশনা দিয়েছে। এতে করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে আঘাত হানার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশলের উদ্দেশ্য সরাসরি সামরিক জয় নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে প্রতিপক্ষকে দুর্বল করে তোলা। এতে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ঝুঁকি বাড়ছে।
ইউক্রেনীয় সূত্র দাবি করেছে, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে রাশিয়া ইরানকে গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি–ও সম্প্রতি এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। একই সঙ্গে ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোন সরবরাহের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া ও ইরানের জ্বালানি খাতের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকায় পরোক্ষভাবে তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ছে। তবে এ বিষয়ে White House এখনো স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের সঙ্গে ড্রোন প্রতিরোধে সহযোগিতার প্রস্তাব নাকচ করেছেন বলে জানা গেছে।
তবে পেন্টাগনের ভেতরে ভিন্ন সুর শোনা যাচ্ছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর অনেক কর্মকর্তা ইউক্রেনের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে আগ্রহী। এ প্রসঙ্গে মার্কিন স্পেস ফোর্সের লেফটেন্যান্ট জেনারেল স্টিভেন হুইটনি ইউক্রেনের উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে “অবিশ্বাস্য” বলে উল্লেখ করেছেন।
ইউক্রেনীয় সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, ইরান, রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলো ক্রমেই কৌশলগতভাবে একত্রিত হচ্ছে—যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
AD/একাত্তরের কথা




















