স্টাফ রিপোর্ট ::
কেউ নতুন পোশাক পেয়ে ঈদের আনন্দ খুঁজে পায়, আবার কেউ একটি স্কুল ড্রেস পাওয়ার অপেক্ষায় দিনের পর দিন স্কুলে যায় পুরোনো জামা পরে। কেউ স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশকে স্বাভাবিক অধিকার মনে করে, আর কেউ সেই মৌলিক সুবিধাটুকু থেকেও বঞ্চিত থাকে। ঠিক এমন কিছু শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতেই মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে সিলেটের সামাজিক সংগঠন ইয়াং স্টার ক্লাব।
শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, শিশুদের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়েই সংগঠনটির উদ্যোগে সিলেটের গোয়াবাড়ি পাঠানটুলায় অবস্থিত লাইট-আরবান স্লাম স্কুলে একটি স্যানিটারি ল্যাট্রিন নির্মাণের জন্য অনুদান প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের ২৫ জন সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে উন্নত মানের নতুন স্কুল ড্রেস।
নতুন পোশাক হাতে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে শিশুরা। কারও চোখে বিস্ময়, কারও মুখে লাজুক হাসি। যেন ছোট্ট এই উপহারটুকুই তাদের কাছে বড় এক স্বীকৃতি—তারাও গুরুত্বপূর্ণ, তারাও স্বপ্ন দেখতে পারে।
এই স্কুল ড্রেসগুলোর সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক ভাই ও বোন। হাজার মাইল দূরে থেকেও শেকড়ের প্রতি ভালোবাসা আর সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে তারা দাঁড়িয়েছেন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে। তাদের এই মানবিক অবদানের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা।
তারা বলেন, সমাজের অবহেলিত শিশুদের জন্য এমন উদ্যোগ শুধু সহায়তা নয়, বরং তাদের আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার এক শক্তিশালী অনুপ্রেরণা। এতে শিশুদের মধ্যে বিদ্যালয়মুখী হওয়ার আগ্রহও বাড়বে।
অনুদান ও উপহার সামগ্রী হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ইয়াং স্টার ক্লাবের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রচার সম্পাদক রাসেল আহমেদ , অর্থ সম্পাদক ফুজায়েল আহমদ, নির্বাহী সম্পাদক কামরুল ইসলাম, এবং সদস্য শাহ্ তৌহিদ আহমদ প্রয়াস ।
এ সময় ক্লাবের নেতৃবৃন্দ জানান, মানবতার সেবার অঙ্গীকার থেকেই তাদের এই পথচলা। তারা বিশ্বাস করেন, সমাজের প্রতিটি শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা শুধু রাষ্ট্রের নয়, বরং সমাজের প্রতিটি সচেতন মানুষেরও দায়িত্ব।
তারা আরও বলেন, “আমরা চাই না কোনো শিশু শুধুমাত্র দারিদ্র্যের কারণে পিছিয়ে পড়ুক। সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের লক্ষ্য। আজকের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। আরও বেশি মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আমরা মানবিক সমাজ গঠনের কাজে এগিয়ে যেতে চাই।”
একটি স্যানিটারি ল্যাট্রিন নির্মাণে সহায়তা আর ২৫টি স্কুল ড্রেস বিতরণ—পরিসংখ্যানে হয়তো খুব বড় কোনো আয়োজন নয়। কিন্তু যেসব শিশুর কাছে একটি নতুন পোশাকও স্বপ্নের মতো, তাদের জীবনে এই ভালোবাসার স্পর্শ হয়ে উঠতে পারে নতুন করে পথচলার প্রেরণা।
কারণ, সমাজ বদলে দেওয়ার জন্য সব সময় বড় আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। কখনো কখনো কয়েকটি শিশুর মুখের হাসিই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় অর্জন।



















