Ekattorer Kotha
সোমবার , ২০ জুলাই ২০২৬ | ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আলোচিত
  5. ইপেপার
  6. ক্রিকেট
  7. খুলনা
  8. খেলা
  9. চট্রগ্রাম
  10. জাতীয়
  11. ঢাকা
  12. দেশের ভেতরে
  13. প্রবাসের কথা
  14. প্রযুক্তি
  15. প্রেসবক্স

মেসির শেষ বিশ্বকাপ কি শেষ মহাকাব্য?

                       

জুলাই ২০, ২০২৬
                   

রিটন আহমদ দিপু : :

 

একসময় তাঁকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল-বিশ্বকাপ কোথায়? ২০২২ সালে সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। চার বছর পর, ২০২৬ বিশ্বকাপে আবারও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলে তিনি প্রমাণ করেন, বয়স নয়, প্রতিভা ও নেতৃত্বই একজন কিংবদন্তির আসল পরিচয়। তবে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়নি। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে কৌশলগত চাপে, মাঝমাঠের ব্যর্থতায় এবং বয়সজনিত শারীরিক সীমাবদ্ধতায় নিজের স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে পাননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবুও বিশ্বকাপের ছয়টি আসরজুড়ে তাঁর অসাধারণ ধারাবাহিকতা, বিশ্বজয়ের গৌরব এবং অসংখ্য রেকর্ড তাঁকে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

২০০৬ সালে জার্মানির মাটিতে কিশোর প্রতিভা হিসেবে বিশ্বকাপ অভিষেক হয়েছিল লিওনেল মেসির। প্রথম বিশ্বকাপেই গোল করে নিজের সামর্থ্যরে জানান দিয়েছিলেন তিনি। এরপর ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬-প্রতিটি বিশ্বকাপই তাঁর ক্যারিয়ারের ভিন্ন ভিন্ন অধ্যায়ের সাক্ষী।

২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে প্রায় একক নৈপুণ্যে ফাইনালে তুলেছিলেন মেসি। কিন্তু জার্মানির কাছে অতিরিক্ত সময়ে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়। ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ^কাপে হতাশাজনক বিদায়ের পর সমালোচনার তীব্র চাপও সহ্য করতে হয় তাঁকে।

অবশেষে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে পূর্ণতা পায় তাঁর ফুটবল জীবন। সাত গোল, তিন অ্যাসিস্ট এবং ফাইনালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আর্জেন্টিনাকে ৩৬ বছর পর বিশ^কাপ জেতান। সেই শিরোপাই তাঁকে পেলে, ম্যারাডোনাদের কাতারে স্থায়ী আসন এনে দেয়।

অনেকেই ভেবেছিলেন, কাতারই হবে তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। কিন্তু সব জল্পনা ভুল প্রমাণ করে ৩৯ বছর বয়সেও ২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠে নামেন তিনি। বয়সের ছাপ থাকলেও খেলার বুদ্ধিমত্তা, নিখুঁত পাস, নেতৃত্ব এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা দিয়ে আবারও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন।

বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে মেসিকে তাঁর পরিচিত রূপে দেখা যায়নি। পুরো ম্যাচজুড়ে তাঁকে কার্যকরভাবে নিষ্ক্রিয় রাখতে সফল হয় স্পেন।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেন মেসিকে ঘিরে বিশেষ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। মাঝমাঠে জায়গা কমিয়ে দেওয়া, দ্রুত প্রেসিং এবং দুই-তিনজন ডিফেন্ডারের নিবিড় মার্কিংয়ের কারণে তিনি খুব কমবারই বিপজ্জনক জায়গায় বল পান।

এছাড়া পুরো টুর্নামেন্টে টানা ম্যাচ খেলার শারীরিক ক্লান্তিও তাঁর খেলায় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ৩৯ বছর বয়সে প্রতিটি ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়ার চাপও ছিল চোখে পড়ার মতো।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার মাঝমাঠ প্রত্যাশিত নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়। ফলে মেসিকে বারবার নিচে নেমে বল সংগ্রহ করতে হয়েছে। এতে প্রতিপক্ষের বক্সের কাছাকাছি তাঁর উপস্থিতি কমে যায় এবং আক্রমণের ধারও ভোঁতা হয়ে পড়ে।

ফাইনালে পরাজয় তাঁর অর্জনের দীপ্তি কমাতে পারেনি। ছয়টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ, বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক, একাধিকবার টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি, বিশ^কাপে অসংখ্য গোল ও অ্যাসিস্ট এবং দীর্ঘ দুই দশকের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স-সব মিলিয়ে বিশ^কাপ ইতিহাসে মেসি এখন এক অনন্য অধ্যায়।

বিশ্বকাপ শেষে অবসরের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি মেসি। ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর ধারণা, শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক প্রস্তুতি বিবেচনা করেই তিনি ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হলেও ফুটবলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শেষ হচ্ছে না। তরুণদের অনুপ্রেরণা, ফুটবল উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে প্রশাসনিক বা পরামর্শক ভূমিকায় তাঁকে দেখা যেতে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্বকাপের ট্রফি সব সময় একজনের হাতে থাকে না। কিন্তু ইতিহাস সবার জন্য সমান নয়। কেউ শিরোপা জিতে স্মরণীয় হন, আর কেউ নিজের পুরো ক্যারিয়ার দিয়ে ইতিহাস হয়ে ওঠেন। লিওনেল মেসি সেই দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষ-যাঁর নাম উচ্চারিত হবে শুধু একজন বিশ্বকাপজয়ী হিসেবে নয়, বরং এমন এক ফুটবল শিল্পী হিসেবে, যিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলকে নতুন অর্থ, নতুন সৌন্দর্য এবং নতুন উচ্চতা উপহার দিয়েছেন।

সর্বশেষ - লিড নিউজ