Ekattorer Kotha
রবিবার , ১২ এপ্রিল ২০২৬ | ৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আলোচিত
  5. ক্রিকেট
  6. খুলনা
  7. খেলা
  8. চট্রগ্রাম
  9. জাতীয়
  10. ঢাকা
  11. দেশের ভেতরে
  12. প্রবাসের কথা
  13. প্রযুক্তি
  14. প্রেসবক্স
  15. ফিচার

মৌলভীবাজারে শাখা বরাক খনন প্রকল্পে কোটি টাকার জলাঞ্জলী

                       

এপ্রিল ১২, ২০২৬
                   

একাত্তর ডেস্ক ::

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাহাদুরপুর এলাকা থেকে উৎপত্তি নিয়ে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ হয়ে পুনরায় কুশিয়ারা নদীতে মিলিত শাখা বরাক নদী এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। কোটি টাকার খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও নদীটি আগের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে না পেয়ে অনেক স্থানে খালে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে কৃষকদের উপকারের লক্ষ্য নিয়ে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নদীটির মৌলভীবাজার অংশে খনন কাজ শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে খননের পর প্রত্যাশিত সুফল না মিললেও উল্টো নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং তীর দখলের প্রবণতা বাড়ে।

প্রায় ৮.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদীটি একসময় লঞ্চ ও স্টিমার চলাচলের উপযোগী ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্লুইসগেট স্থাপন, বাঁধ নির্মাণ এবং অপরিকল্পিত খনন কাজের কারণে নদীর প্রাকৃতিক গতিপথ বাধাগ্রস্ত হয় বলে জানান স্থানীয়রা।

ফতেপুর, আলাপুর, লামুয়া, চাঁনপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি আটকে গিয়ে এখন নিয়মিত জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানির অস্তিত্বই থাকে না বলে অভিযোগ তাদের।

স্থানীয় কৃষকরা বলেন, খনন প্রকল্পের পর নদীর গভীরতা ও পানি ধারণক্ষমতা বাড়ার কথা থাকলেও বাস্তবে উল্টো মাটি ফেলে ভরাট করে ফেলা হয়েছে অনেক অংশ। এতে কৃষিজমিতে পলিবাহিত পানি প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, ফলে কৃষি উৎপাদনেও প্রভাব পড়ছে।

ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর ও জরিপ উল্লাহ জানান, একসময় এই নদী ছিল প্রশস্ত ও প্রাণবন্ত। লঞ্চ চলাচল করত, খেলাধুলার আয়োজনেও নদীপথ ব্যবহার করা হতো। এখন নদীটি খালে পরিণত হয়ে পড়েছে।

চাঁনপুর গ্রামের মুজাহিদ আহমদ অভিযোগ করে বলেন, অপরিকল্পিত খননের কারণে সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে এবং কিছু এলাকায় নদীর জায়গা দখলের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে নদীভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পরিবেশকর্মী আ স ম সালেহ সুহেল বলেন, সঠিক সার্ভে ছাড়া খনন কার্যক্রম পরিচালনা করায় নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়নি। পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে কৃষি ও মৎস্য সম্পদে ইতিবাচক পরিবর্তন আসত।

তবে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, নদীর একাংশ খনন করা হলেও নবীগঞ্জ অংশে কাজ না হওয়ায় পুরো সুফল পাওয়া যায়নি। অনেক স্থানে স্থাপনা ও অবকাঠামো থাকায় পূর্ণাঙ্গ খনন সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ - লিড নিউজ