দশদিক ডেস্ক : :
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীর অনিশ্চয়তা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের জেরে তেল সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দেওয়ায় দেশগুলো বিকল্প জ্বালানির দিকে দ্রুত ঝুঁকছে।
যদিও ওয়াশিংটন ও তেহরান সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে, তবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করা নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎসের সন্ধান এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার আগে ইরান প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়, যা তেলের দামে আরও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা-এর প্রধান ফাতিহ বিরোল সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান তেল ও গ্যাস সংকট অতীতের একাধিক বড় সংকটের চেয়েও গুরুতর আকার নিতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে চীন নিজেকে একটি স্থিতিশীল অংশীদার হিসেবে তুলে ধরছে। দেশটি উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি সৌর, বায়ু ও ব্যাটারি প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।
চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগের আওতায় জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়ন এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। এর ফলে অনেক দেশ ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি এড়াতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান সংকট শুধু সাময়িক অস্থিরতা নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
AD/একাত্তরের কথা




















