দশদিক ডেস্ক : :
বিশ্বজুড়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি করছে করোনা ভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ‘সিকাদা’। উচ্চমাত্রার মিউটেশনযুক্ত এই ভ্যারিয়েন্টটির বিস্তার পর্যবেক্ষণে রয়েছে Centers for Disease Control and Prevention (সিডিসি) ও World Health Organization।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ‘সিকাদা’ ভ্যারিয়েন্টটি প্রথম শনাক্ত হয় ২০২৪ সালে। বর্তমানে এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যসহ বিশ্বের ২০টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু অঞ্চলে মোট সংক্রমণের প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত এই ভ্যারিয়েন্ট দায়ী বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘সিকাদা’ ভ্যারিয়েন্টে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫টি মিউটেশন রয়েছে, যা পূর্ববর্তী জেএন.১ স্ট্রেন থেকে ভিন্ন। এ কারণে বিদ্যমান টিকা সংক্রমণ প্রতিরোধে তুলনামূলক কম কার্যকর হতে পারে। তবে গুরুতর অসুস্থতা প্রতিরোধে টিকা এখনও কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
‘সিকাদা’ মূলত বিএ.৩.২ ভ্যারিয়েন্টের একটি ডাকনাম। যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ সালের শুরুতে প্রথম রোগী শনাক্ত হয় এবং পরে ময়লা পানির নমুনা পরীক্ষায় একাধিক অঙ্গরাজ্যে এর উপস্থিতি পাওয়া যায়। ইতোমধ্যে উত্তর ইউরোপের কয়েকটি দেশ—যেমন জার্মানি, ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ডসে—এটি উল্লেখযোগ্য হারে সংক্রমণ ঘটাচ্ছে।
উপসর্গের দিক থেকে এই ভ্যারিয়েন্ট অন্যান্য কোভিড স্ট্রেনের মতোই। সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে নাক দিয়ে পানি পড়া বা বন্ধ থাকা, মাথাব্যথা, ক্লান্তি, হাঁচি, গলা ব্যথা, কাশি এবং স্বাদ বা গন্ধের পরিবর্তন। কিছু ক্ষেত্রে তীব্র গলা ব্যথা (‘রেজারব্লেড থ্রোট’)–এর মতো উপসর্গও দেখা যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, যদিও এটি এখনো আগের ভ্যারিয়েন্টগুলোর তুলনায় বেশি মারাত্মক নয়, তবুও সংক্রমণ রোধে সতর্কতা জরুরি। এজন্য পরীক্ষার পরিমাণ বাড়ানো, এন৯৫ মাস্ক ব্যবহার এবং বুস্টার ডোজ গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায়, ভ্যারিয়েন্টটি ভবিষ্যতে কতটা প্রভাব ফেলবে তা এখনই নিশ্চিত নয়, তবে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
AD/একাত্তরের কথা


















