Ekattorer Kotha
শুক্রবার , ১৭ এপ্রিল ২০২৬ | ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৩রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আলোচিত
  5. ইপেপার
  6. ক্রিকেট
  7. খুলনা
  8. খেলা
  9. চট্রগ্রাম
  10. জাতীয়
  11. ঢাকা
  12. দেশের ভেতরে
  13. প্রবাসের কথা
  14. প্রযুক্তি
  15. প্রেসবক্স

সিলেটে পাম্পে ‘তেল নেই’ সাইনেবার্ড

                       

এপ্রিল ১৭, ২০২৬
                   

একাত্তর ডেস্ক ::
সিলেট নগরী ও বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ করেই জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে ‘তেল নেই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা গেছে। ফলে পরিবহন চালক, মোটরসাইকেল আরোহী ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সিলেট বিভাগের অধিকাংশ পাম্পে পেট্রোল, অকটেন কিংবা ডিজেল না পেয়ে বিপাকে পড়েন যানবাহনের চালকরা। নগরীর বিভিন্ন পাম্প ঘুরেও অনেককে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। এতে পরিবহন চলাচলে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে এবং সড়কে যানবাহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগও বেড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বেশিরভাগ পাম্পে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কোথাও কোথাও সীমিত পরিমাণে তেল দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতে প্রশাসনের নির্ধারিত ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে নগরীর মেন্দিবাগ এলাকার মেসার্স বেঙ্গল গ্যাসোলিন অ্যান্ড সার্ভিসিং স্টেশনে প্রতিটি সাধারণ মোটরসাইকেলের চালকদের ২০০ টাকা এবং রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে ৫০০ টাকার জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। তবু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় অনেক চালক হতাশা প্রকাশ করেন।

চালকদের অভিযোগ, তেলের অভাবে তারা নিয়মিতভাবে গাড়ি চালাতে পারছেন না। এতে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছেন না।

আম্বরখানা এলাকার মাইক্রোবাস চালক জাহিদ মিয়া বলেন, সকাল থেকে বিভিন্ন পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পেট্রোল পাইনি। কাজ না থাকায় আয় বন্ধ হয়ে গেছে, পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

নগরীর বাগবাড়ির বাসিন্দা আবুল কাসেম জানান, অকটেন সংকটে তার প্রাইভেটকারের জ্বালানি শেষ হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নগরীর ১৫ থেকে ২০টি পাম্প ঘুরেও কোথাও পেট্রোল বা অকটেন পাননি।

মেজরটিলা এলাকার বাসিন্দা সেলিনা বেগম বলেন, হঠাৎ এমন সংকটে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

নগরীর লামাবাজার এলাকার ব্যবসায়ী নাসিম হোসেন জানান, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ায় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাননি। মোটরসাইকেলের জ্বালানি না পেয়ে তার ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন আহমেদ বলেন, সরকারি হিসেবে সরবরাহ স্বাভাবিক বলা হলেও বাস্তবে অনেক পাম্পে তেলের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। নতুন নিয়মে প্রতিটি পাম্পকে দৈনিক মাত্র দুই হাজার লিটার তেল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় খুবই কম।

তিনি আরও বলেন, অল্প পরিমাণ তেল পরিবহনে খরচ বেশি হওয়ায় অনেক পাম্প মালিক তেল নিতে আগ্রহী হচ্ছেন না। ফলে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। একসঙ্গে কয়েক দিনের তেল সরবরাহের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

তেল মজুত বা সিন্ডিকেটের অভিযোগ নাকচ করে তিনি জানান, প্রতিটি পাম্পে সরকারি ট্যাগ অফিসার ছাড়াও এনএসআই ও ডিজিএফআইয়ের নজরদারি রয়েছে। নিয়মিত স্টক হিসাব থাকায় তেল মজুতের সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সরওয়ার আলম বলেন, জ্বালানির প্রকৃত কোনো ঘাটতি নেই। আতঙ্কে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে কিছু পাম্পে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পাম্প মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে এবং দ্রুত সমস্যা সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সর্বশেষ - জাতীয়

আপনার জন্য নির্বাচিত