একাত্তর ডেস্ক : :
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীতে বাসডুবির মর্মান্তিক ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ২১ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে জেলা প্রশাসন।
অবশিষ্ট তিনজনের মরদেহ—যার মধ্যে বাসচালকও রয়েছেন—রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল–এ রাখা হয়েছে।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহন–এর একটি যাত্রীবাহী বাস দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এতে বাসটি দ্রুত তলিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় ১০ থেকে ১২ জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও অনেকেই নিখোঁজ হয়ে পড়েন। বাসটিতে ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাত সাড়ে ১২টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ডুবে যাওয়া বাসটি পানির নিচ থেকে তুলে আনে।
এদিকে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও দায় নির্ধারণে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি কমিটি এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহিদুল ইসলাম–এর নেতৃত্বে আরেকটি কমিটি কাজ করছে।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান জানান, উভয় কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে যাদের দায় প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্বজনদের মাঝে, পাশাপাশি নৌপথে যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
AD/একাত্তরের কথা



















