একাত্তর ডেস্ক : :
বিশ্ব স্বাস্থ্য খাতে টিকার মাধ্যমে যুগান্তকারী অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের সাবিন অ্যাওয়ার্ডসে সম্মানিত হচ্ছেন তিন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের গর্ব সেঁজুতি সাহা, যিনি ‘রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছেন।
করোনা মহামারি মোকাবিলা থেকে শুরু করে শিশুদের রোগ প্রতিরোধে কার্যকর টিকা কর্মসূচি বাস্তবায়ন—এই তিন বিজ্ঞানীর গবেষণা ও উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
এবারের আসরে ‘অ্যালবার্ট বি. সাবিন গোল্ড মেডেল’ পাচ্ছেন অধ্যাপক উগুর শাহিন ও অধ্যাপক ওজলেম ত্যুরেজি। কোভিড-১৯ মহামারির গতিপথ বদলে দেওয়া এবং নতুন ধরনের ওষুধের সহজলভ্যতা বাড়াতে তাঁদের অসামান্য ভূমিকার জন্য এ সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। ক্যানসার চিকিৎসার জন্য উদ্ভাবিত প্রযুক্তিকে দ্রুত কাজে লাগিয়ে তাঁরা রেকর্ড সময়ে কার্যকর কোভিড-১৯ টিকা উদ্ভাবন করেন, যা কোটি মানুষের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের বিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা জিনতত্ত্বভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিশ্বের বৃহত্তম টাইফয়েড টিকা কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর কাজ ইতোমধ্যে কোটি কোটি শিশুকে সুরক্ষার আওতায় আনতে সহায়তা করছে।
সেঁজুতি সাহার নেতৃত্বে দেশে গড়ে উঠেছে আধুনিক জিনোম গবেষণাগার, যেখানে হাজার হাজার রোগজীবাণুর জিনোম বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর ফলে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং নতুন টিকা উদ্ভাবনের পথ আরও সুগম হয়েছে। পাশাপাশি তিনি নতুন প্রজন্মের গবেষকদের গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
আগামী ১২ মে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তিন বিজ্ঞানীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানটি অনলাইনেও সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
সাবিন ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউট জানায়, ১৯৯৩ সাল থেকে ‘অ্যালবার্ট বি. সাবিন গোল্ড মেডেল’ এবং ২০২০ সাল থেকে ‘রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হচ্ছে।
পুরস্কার প্রাপ্তি নিয়ে সেঁজুতি সাহা বলেন, এই স্বীকৃতি শুধু তাঁর একার নয়; বরং বাংলাদেশের একটি নিবেদিতপ্রাণ গবেষকসমাজের সম্মিলিত অর্জন। তিনি মনে করেন, সমন্বিত প্রচেষ্টা থাকলে যেকোনো দেশেই আন্তর্জাতিক মানের বিজ্ঞানচর্চা সম্ভব।
অন্যদিকে, উগুর শাহিন ও ওজলেম ত্যুরেজি যৌথ বিবৃতিতে জানান, এই সম্মান তাঁদের জন্য গর্বের এবং এটি বিশ্বজুড়ে তাঁদের সহকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি।
সাবিন ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যামি ফিনান বলেন, এই বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন—গবেষণাগারের উদ্ভাবনকে দ্রুত মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোই সত্যিকার সাফল্য। টিকার উন্নয়ন ও সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের অবদান অনন্য।
AD/একাত্তরের কথা




















