ইরান ও তার সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলা মোকাবিলায় দ্রুত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নিতে বিশ্বজুড়ে কূটনীতিকদের সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। বিভিন্ন দেশের সরকারকে এ বিষয়ে রাজি করাতে যুক্তরাষ্ট্রের সব দূতাবাস ও কনস্যুলেটে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ABC News–এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সোমবার পাঠানো এক কূটনৈতিক তারবার্তায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ‘আইআরজিসির তৎপরতা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ’ শীর্ষক বার্তায় মূলত ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC)–এর কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
ওই বার্তায় মার্কিন কূটনীতিকদের বলা হয়েছে, ২০ মার্চের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর উচ্চপর্যায়ে এই বার্তা পৌঁছে দিতে। এতে জোর দিয়ে বলা হয়, ইরানের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় একক উদ্যোগের চেয়ে সম্মিলিত পদক্ষেপ বেশি কার্যকর হবে।
এ উদ্যোগের পেছনে রয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর কৌশল। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিয়ে একটি শক্তিশালী জোট গঠনের চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তারবার্তায় আরও বলা হয়েছে, ইরান সরকার যৌথ আন্তর্জাতিক চাপের প্রতি বেশি সংবেদনশীল। তাই বহুপাক্ষিক উদ্যোগের মাধ্যমে দেশটিকে আচরণ পরিবর্তনে বাধ্য করা সম্ভব বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, হিজবুল্লাহ, হামাস এবং ইরাকভিত্তিক বিভিন্ন মিলিশিয়াকে সমর্থনের মাধ্যমে ইরান দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
কূটনৈতিক বার্তায় যেসব দেশ এখনো ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC) ও হিজবুল্লাহ–কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেনি, তাদের দ্রুত এ পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করতে বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, এতে ইরানের ওপর চাপ বাড়বে এবং বিশ্বজুড়ে সহিংস কার্যক্রমে অর্থায়ন ও সমর্থন দেওয়ার সক্ষমতা কমবে।
ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের সামরিক ও গোয়েন্দা তৎপরতা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি তৈরি করছে। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত পদক্ষেপকে এখন ‘সবচেয়ে জরুরি’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
AD/একাত্তরের কথা



















