স্টাফ রিপোর্ট ::
ঈদের সরকারি ছুটি শেষ হওয়ার পরও সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভিড় কমেনি। জাফলং, সাদাপাথর, লালাখাল এবং চা বাগানসহ সব প্রধান পর্যটনকেন্দ্রে এখনও পর্যটকেরা প্রবল উপস্থিতি রেখেছেন। হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলো এখন পুরোপুরি ভরা, আর পর্যটকরা নানান কার্যক্রমে মেতে উঠেছেন।
কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র ঈদের দিন কিছুটা শান্ত থাকলেও পরের দিন রোববার থেকে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, সারা দেশ থেকে আসা পর্যটকগণ পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে ঝরনার জল ও নদীর সাদা পাথরের সৌন্দর্যে আনন্দ উপভোগ করছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউবা নদীতে সাঁতার কাটছেন।
পর্যটকদের বড় সংখ্যার কারণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে। নৌকার ভাড়া ও পর্যটকের চলাচল নিয়ন্ত্রণে স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছেন।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মাহবুবুর রহমান বলেন, শহরের কোলাহল ও যানজট থেকে দূরে প্রকৃতির মাঝে ঈদ কাটাতে এখানে এসেছি। পাহাড় আর পাথরের মিতালি সত্যিই অসাধারণ।
সাদাপাথরের হোটেল আল বেলার মালিক লিটন মিয়া বলেন, ঈদের দিন থেকেই পর্যটক আগমন শুরু হয়েছে। আশা করি বাকি দিনগুলোতেও ভিড় থাকবে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া বলেন, সাদাপাথরে প্রচুর পর্যটক এসেছেন। তাদের সেবা দেওয়ার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কোথাও কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। আশা করি আগামী দিনগুলোতেও পর্যটকদের আগমন ঘটবে।
গোয়াইনঘাটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোও ঈদের টানা ছুটিতে প্রাণ ফিরেছে। জাফলং, বিছনাকান্দি ও জলারবন রাতারগুলসহ সব জায়গায় পরিবার ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে পর্যটকরা ভ্রমণে আসছেন। হোটেল-মোটেলের বেশির ভাগ রুম ঈদের দিন থেকে আগেভাগেই বুক হয়ে গেছে।
জাফলংয়ের স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান বলেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে প্রাণ ফিরে এসেছে। এতে ব্যবসায়ীরাও খুশি। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি পর্যটকদের সেবা দিতে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ জাফলং জোনের ইনচার্জ তপন তালুকদার জানান, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসনও পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদার করেছে। গোয়াইনঘাট ইউএনও রতন কুমার অধিকারী বলেন, থানা-পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস, আনসার-রোভার স্কাউট ও স্থানীয় ডুবুরি দল পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছে।




















