স্টাফ রিপোর্ট ::
দৈনিক একাত্তরের কথা পত্রিকার প্রধান ফটো সাংবাদিক, বাংলাদেশ মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিএমজেএ) সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি ও সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সদস্য মো. মোহিদ হোসেনকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপদস্থ, ব্ল্যাকমেইল এবং অর্ধকোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে রাজধানী ঢাকার বাড্ডা এলাকা থেকে দুইজন সাইবার অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাদের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
ডিবি সূত্র জানিয়েছে, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বাড্ডা থানা পুলিশের সহযোগিতায় গুলশান-বাড্ডা লিংক রোডের টি-১২৮ নম্বর বাসার তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ঢাকার গুলশান বাড্ডা লিংক রোডের টি-১২৮ নং বাসার বাসিন্দা মো. সালাহ উদ্দিন (৪০) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কাইতলা গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ শাহীন মাহমুদ (৫০)। বর্তমানে তারা দুজনই বাড্ডার ঢাকার গুলশান বাড্ডা লিংক রোডের টি-১২৮ নং বাসায় ফ্ল্যাটে বসবাস করছিলেন। শাহীন মাহমুদ সালাহ উদ্দিনের ভাড়াটিয়া বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
মামলার এজাহারসূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিক মোহিদ হোসেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত সাংবাদিক এটিএম আবু তুরাব হত্যা মামলার একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার পর থেকে অভিযুক্তরা ‘জিয়াউর রহমান পলাশ সর্দার’, ‘আমার দেশ’ এবং ‘সুরমার ডাক ফ্যামিলি’ নামে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপ ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর প্রচারণা চালায়। অপপ্রচার বন্ধ ও পোস্ট মুছে ফেলার বিনিময়ে সাংবাদিক মোহিদ হোসেনের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যা ও গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় গত ১৩ জুলাই শাহপরাণ (রহ.) থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন সাংবাদিক মোহিদ হোসেন। মামলার প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই (নিরস্ত্র) অঞ্জন কুমার দেবনাথ জানান, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার কিংবা সংঘবদ্ধ সাইবার অপরাধের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।




















