দশদিক ডেস্ক : :
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনায় অংশ নিতে ইসলামাবাদে যাওয়ার বিষয়ে ইরানের কোনো অস্বীকৃতি নেই বলে জানিয়েছে তেহরান। শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের বক্তব্যকে ভুল হিসেবে উড়িয়ে দেন।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছিল যে ইরান ইসলামাবাদে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করতে ইচ্ছুক নয় এবং মার্কিন শর্তগুলো গ্রহণযোগ্য নয়। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ আরাগচি লিখেছেন, “ইসলামাবাদ যেতে আমরা কখনো অস্বীকার করি নি।” তিনি আরও বলেন, তাদের লক্ষ্য হলো “এই অবৈধ যুদ্ধের একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী সমাপ্তি নিশ্চিত করা।”
এর জবাবে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার আরাগচির এই স্পষ্টীকরণের জন্য প্রশংসা করেন। তিনি এক পোস্টে লিখেছেন, “আপনার স্পষ্টীকরণের জন্য আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ, আমার প্রিয় ভাই।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাতে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তেহরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালী কার্যকরভাবে বন্ধ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে গেছে।
পাকিস্তান গত ৩১ মার্চ সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরের আঞ্চলিক মন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠক আয়োজন করেছিল। এরপর ইসলামাবাদে চতুর্পক্ষীয় বৈঠকের পর পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী দার বেইজিংয়ে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। সেখানে পাঁচ দফা শান্তি উদ্যোগ নেওয়া হয়, যার মধ্যে ছিল অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ, আলোচনা শুরু, অসামরিক লক্ষ্যবস্তু ও নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জাতিসংঘ সনদের প্রাধান্য বজায় রাখা।
গত ২ এপ্রিল পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, উত্তেজনা হ্রাস ও অর্থপূর্ণ আলোচনার জন্য পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার করছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, “পাকিস্তান উত্তেজনা প্রশমন এবং সংলাপের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। পরবর্তী ধাপ হবে সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যে অর্থপূর্ণ আলোচনা নিশ্চিত করা।”
AD/একাত্তরের কথা




















