একাত্তর ডেস্ক ::
জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের সহধর্মিণী, শিক্ষাবিদ দিলারা হাফিজ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার সকাল ১১টা ২৯ মিনিটে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।
তিনি স্বামী, দুই ছেলে ও এক কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
দিলারা হাফিজ ১৯৪৯ সালের ২ জানুয়ারি সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন মোহাম্মদ আবুল হোসেন চৌধুরী এবং মাতা করিমুন্নেছা খাতুন চৌধুরী। তিনি সাবেক খাদ্যমন্ত্রী মেজর ইকবাল হোসেন চৌধুরীর ছোট বোন।
শিক্ষাজীবনে তিনি সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
কর্মজীবনে তিনি সরকারি ইডেন কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে সোহরাওয়ার্দী কলেজে শিক্ষকতা করেন। পরে ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, দিলারা হাফিজের মরদেহ রোববার সন্ধ্যায় দেশে আনা হবে। সোমবার (৩০ মার্চ) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে বাদ জোহর ঢাকা সেনানিবাস কেন্দ্রীয় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বনানী সামরিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
দিলারা হাফিজের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি শোক প্রকাশ করে মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।
এদিকে তাঁর মৃত্যুতে সুনামগঞ্জেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুল এক শোকবার্তায় বলেন, দিলারা হাফিজ ছিলেন শিক্ষাক্ষেত্রের একজন নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন গুণী শিক্ষাবিদকে হারালো।
অপরদিকে সুনামগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরী বলেন, দিলারা হাফিজ হাওরাঞ্চলের গর্ব ছিলেন। কর্মজীবনে সততা ও নিষ্ঠার যে দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গেছেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
স্বজনরা জানান, দিলারা হাফিজ ছিলেন অত্যন্ত সজ্জন ও মানবিক একজন মানুষ। দিরাইয়ের মাটিয়াপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তিনি ভূমিকা রেখেছেন। সুযোগ পেলেই নিজ এলাকা দিরাইয়ে গিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। তাঁর মৃত্যুতে এলাকাবাসী একজন প্রিয় মানুষকে হারিয়েছে।




















